• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন |

কুলিয়ারচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে স্বামী আটক

# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এবার যৌতুকের দাবিতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হলেন মোছা. সুরমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূ। গুরুতর আহত অবস্থায় গত ১ জানুয়ারি রোববার বিকালে তাকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আহত সুরমা আক্তার উপজেলার মধ্য সালুয়া গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার কন্যা।
সুরমা আক্তারের অভিযোগ তার স্বামী উপজেলার আলী নগর গ্রামের মৃত নুরুজ্জামান ওরুফে আঙ্গুর মিয়ার পুত্র মো. কামরুল হাসান সুমন (৩৫) তার ছোট ভাই মো. দেলোয়ার হোসেন ওরুফে জুয়েল মিয়ার প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় গত ১ জানুয়ারি রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। অবশেষে তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় ২ জানুয়ারি সোমবার রাতে তিনি বাদী হয়ে স্বামী মো. কামরুল হাসান সুমন ও দেবর মো. দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১। মামলা রুজু হওয়ার পর ওই রাতেই কুলিয়ারচর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মো. কামরুল হাসান সুমনকে আটক করে।
সুরমা আক্তারের পিতা সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. সিদ্দিক মিয়া জানান, প্রায় ৩ বছর পূর্বে কামরুল হাসান সুমনের নিকট তার মেয়েকে বিবাহ দেয়। বিবাহ দেওয়ার সময় মেয়েকে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও মেয়ের স্বামী সুমনকে একটি পালসার মোটরসাইকেল দেয়। বিয়ে দেওয়ার এক বছর পর তার মেয়ের স্বামী সুমন ব্যবসা করার অযুহাতে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি করে তার মেয়েকে শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন করায় মেয়ের সুখের জন্য দুই ধাপে যৌতুক হিসেবে মেয়ের স্বামী সুমনকে ৪ লক্ষ টাকা দেয়। এতেও সুমন ক্ষ্যান্ত হয়নি। এক মাস যাবৎ পুনরায় যৌতুক হিসেবে আরো ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে তার মেয়েকে শারেরীক ও মানুষিক নির্যাতন করতে থাকে সুমন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত রোববার বিকালে কামরুল হাসান সুমন ও দেলোয়ার হোসেন মিলে নির্মমভাবে নির্যাতন করে অবশেষে দা দিয়ে কোপ মেরে তার মেয়েকে হত্যা করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে লোকজন নিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে মেয়েকে গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করেন তিনি।
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আদনান আখতার বলেন, সুরমা আক্তারকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়েছে। তার মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে। শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মোছা. সুরমা আক্তারের লিখিত অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে মামলা রুজু করে রাতেই তার স্বামী মো. কামরুল হাসান সুমনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *