• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন |

বাইডেনের বিপরীত দাবিতে নেতানিয়াহু, সিনওয়ারকে হত্যার পরও হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

ইস্রায়েল যুদ্ধবিরতির কোনও ইঙ্গিত ছাড়াই অবিরত রাখবে গাজা ও লেবাননে হামলা: নেতানিয়াহু

গাজা সিটি/বেইরুত, ২১ মে – হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যার পর সবাই আশা করেছিল, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংঘাতের অবসান হবে। কিন্তু শুক্রবার ইস্রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাদের এই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা এবং লেবাননে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীও ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে নতুন পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক ইরান বলেছে, সিনওয়ারের মৃত্যু ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’কে আরও দৃঢ় করবে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইস্রায়েলে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে সিনওয়ারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত বুধবার গাজার সর্বদক্ষিণের রাফার তাল আল-সুলতান অঞ্চলে ইস্রায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হন তিনি। পরের দিন ইস্রায়েল এই বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আজ সিনওয়ারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে হামাসও। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা খালেদ আল-হায়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইস্রায়েলি বাহিনী সিনওয়ারকে হত্যা করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিনওয়ারকে হত্যার ঘোষণার পর নেতানিয়াহু বলেছিলেন, সিনওয়ারকে হত্যা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সফলতা। তবে তিনি আরও বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। এই যুদ্ধ এখন গাজা থেকে লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইস্রায়েল দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছে।

ইস্রায়েলিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধুরা, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।’ তিনি বলেছেন, হামাসের হাতে থাকা বন্দীদের মুক্ত করার আগে পর্যন্ত লড়াই চলবে।

ইরান, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে তেহরানের মিত্র সশস্ত্র দলগুলোর উদ্দেশে ইঙ্গিত করে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘দুষ্ট শক্তিগুলোকে ধ্বংস করার এবং একটি ভিন্ন ভবিষ্যত গড়ে তোলার সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে।’

যুদ্ধ এখনই থামছে না

যদিও নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সহ পশ্চিমা নেতাদের মতামতের বিপরীত। বাইডেন বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যু এই সংঘাতের অবসানের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে এবং বন্দীদের মুক্ত করতে চায়। তিনি আরও দাবি করেছেন যে সিনওয়ার আলোচনায় রাজি হননি।

মিলার বলেছেন, ‘এই বাধা অবশ্যই দূর হয়েছে। সিনওয়ারের পরে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তিনি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবেন কিনা তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর হয়েছে।’

লেবাননে কর্মরত একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যুর পর যুদ্ধ বন্ধ হওয়া ভুল ধারণা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আসলেই আশা করেছিলাম যে সিনওয়ারের মৃত্যু যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরানো হবে। সব পক্ষই অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হবে। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমরা আবারও ভুল করতে যাচ্ছি।’

ইস্রায়েল যুদ্ধ অব্যাহত রাখায়, তাদের ঘনিষ্ঠতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্র সহায়তার ফলে ইস্রায়েলের সামরিক ক্ষমতার কাছে ইস্রায়েলের চিরশত্রু ইরান পিছিয়ে পড়ছে।

২৩ বছরের কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত সিনওয়ার

হিজবুল্লাহ নতুন ধাপে যুদ্ধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহ ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে নতুন পর্যায়ে যুদ্ধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সশস্ত্র দল দাবি করেছে যে তারা ইস্রায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে সক্ষম একটি নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘ইস্রায়েলি শত্রুপক্ষের সঙ্গে চলমান সংঘাত একটি নতুন এবং উন্নত স্তরে পরিবর্তিত হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন ঘটনায় এই ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাবে।

হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, ১ অক্টোবর থেকে লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে ইস্রায়েল ৫৫ জন সেনা হারিয়েছে। এছাড়াও পাঁচশোরও বেশি সেনা আহত হয়েছে। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইস্রায়েলের ২০টি মারাকাভা ট্যাংক, চারটি সামরিক বুলডোজার এবং দুটি নজরদারি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।

সিনওয়ারের মৃত্যুর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *