ঢাকার শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার এইচএসসি ফলাফল দাবিদার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণা অনুসারে আজ তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চেয়ারম্যানের পদ থেকে প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছেন।
গতকাল শিক্ষার্থীরা এইচএসসি ফলাফলের বিষয় ম্যাপিং এর বৈষম্য দূর করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবরোধ করেছিল। একদিনের অবরোধের পর রাতে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
বাংলাদেশের এইচএসসি পরীক্ষা গত ৩০ জুন শুরু হয়েছিল। সাতটি পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২০ আগস্ট সচিবালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখায়। এরপর শিক্ষা বিভাগ বাধ্য হয়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করে দেয়।
গত ১৫ অক্টোবর এইচএসসি ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রকাশিত ফলাফল বৈষম্যমূলক। তাই তাদের দাবি, এসএসসি ও সমমানের সব বিষয়ের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে নতুন করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
গতকাল দুপুরে ‘এইচএসসি ব্যাচ ২০২৪’ ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যায়। তাদের মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কাঙ্খিত ফল না পাওয়া কিছুসংখ্যক কৃতকার্য শিক্ষার্থীও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা ফটকের তালা ভেঙে বোর্ড প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। ভবনের ভেতরেও ঢুকে পড়ে তারা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডের ভেতরে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তারা এই হামলার বিচার চায়।
অন্যদিকে, বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যানের কক্ষ ও তার সামনে ভাঙচুর চালিয়েছে। গতকাল বিকেল পৌনে চারটার দিকে চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ার পড়ে আছে। কাগজপত্রসহ ফাইল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মেঝেতে পড়ে আছে।
এদিকে, শিক্ষা বোর্ডে ভাঙচুরের ঘটনায় আজ বোর্ডের কর্মচারীরা মানববন্ধন করবেন।