• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন |

মনিকা চাকমার বিস্ফোরক দাবি: কোচ সিনিয়রদের পছন্দ করেন না

**কোচ সিনিয়রদের পছন্দ করেনা, ফুটলেন মনিকা চাকমা**

সব কোচেরই নিজের পছন্দ থাকে। ম্যাচে কে খেলবে, সেটা একদমই তাঁর সিদ্ধান্ত। পিটার বাটলারও নিজের পছন্দমতো দল ও একাদশ বানান। কিন্তু বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এই ব্রিটিশ কোচের পছন্দের তালিকায় নেই সিনিয়ররা। দলের বাইরে থেকে অনেকে এ কথা আগে থেকেই বলে আসছিলেন। এবার দলের ভেতর থেকেই মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফেললেন।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে কাল পাকিস্তানের সঙ্গে ১-১ ড্র ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে ২৫ হাজার নেপালি টাকা পেয়েছেন খাগড়াছড়ির মেয়ে মনিকা। আজ টিম হোটেলে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পাকিস্তান-ম্যাচের ব্যর্থতা নিয়ে নানা কথা বলেছেন তিনি। পরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন, কোচ কয়েকজন সিনিয়রকে খেলাননি বলে।

মনিকা কী বলেছেন শুনুন, ‘আসলে আমাদের হেড কোচ মারিয়া, মাসুরা আপু, কৃষ্ণাদি—তাদের পছন্দ করেনই না। তাদের খেলানোর কথা ভাবেনই না সে। আমরা সিনিয়র খেলোয়াড়রা গিয়ে কথাও বলেছিলাম যে কেন খেলাচ্ছেন না, কী কারণ, আমাদের দলের জন্য তাদের দরকার আছে। আমরা যদি জিততে চাই, তাহলে তাদের অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা কয়েকজন সিনিয়র মিলে গিয়ে এসব কথা বলেছিলাম। এরপরও তিনি রাজি হননি।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে সানজিদা ও মাসুরাকে মাঠে নামাননি কোচ। মারিয়া ও কৃষ্ণাকে শেষের দিকে মাঠে নামান। কৃষ্ণার তেমন ফিট না থাকায় বদলি নামার কথা বলার কিছু নেই। তবে মারিয়াকে একাদশে না রাখায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।

এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মনিকা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোচ কেন সিনিয়রদের পছন্দ করেন না। মনিকা বল ঠেলে দিয়েছেন কোচের দিকে, ‘সেটা তিনিই জানেন। সিনিয়রদের পছন্দই করেন না তিনি, এটাই মূল কথা।’ এমনকি বিকল্প থাকলে মনিকার জায়গায় নাকি কোচ অন্য কাউকে খেলানোর কথাও শোনা গেছে মনিকার মুখে, ‘আমার জায়গায় যদি অন্য কেউ ভালো করত, তাহলে তাকেই খেলানো হত। সাবিনা খাতুনের জায়গায় যদি উনি অধিনায়ক না হতেন, তাহলে অন্য কাউকে খেলাতেন।’

সিনিয়রদের খুব মিস করছেন মনিকা। স্বপ্না গত সাফে ছিলেন, এবার নেই। সেটা উল্লেখ করে মনিকা বলে যান, ‘এবার মাঠে যেহেতু মাসুরা আপু, মারিয়া, সানজিদা, কৃষ্ণাদি তারা ছিল না, তাই একটু চাপ ছিল। কারণ, সিনিয়র খেলোয়াড়রা মাঠে নেই।’

শামসুন্নাহার গোলের জন্য ‘পাগল’ হয়ে গিয়েছিলেন। মারিয়াকে বেশি মিস করেছেন বলে মনিকা জানান, ‘মারিয়া মাঠে থাকলে, আমার মনে হয় আরও ভালো ফল আমরা পেতাম। মারিয়া, মাসুরা আপু, সানজিদা, কৃষ্ণাদি—সবাইকে খুব মিস করেছি।’

শেষ মুহূর্তে গোল দিয়ে ড্র করে বাঁচলো বাংলাদেশ। ২৩ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচ। সেমিফাইনালে উঠতে এ ম্যাচে ড্র করলেই চলবে। এমনকি ২ গোলের বেশি ব্যবধানে না হারলেও সমস্যা নেই। তবে ভারতের বিপক্ষে বেশি সিনিয়র খেলোয়াড় আশা করছেন মারিয়া, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ বেশ শক্তিশালী। যদি আমাদের দু-তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে খেলানো হয়, তাহলে হয়তো ভালো একটা ফল আমরা আশা করি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *