• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন |

ইসরায়েলের ব্যাংক হামলায় লেবাননের বিদ্রূপ

লেবাননের আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংকের শাখাগুলি জুড়ে হামলা চালানো ইসরায়েলকে নিয়ে তামাশা করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার, লেবানন জুড়ে ব্যাংকটির শাখাগুলিতে হামলা চালায় ইসরায়েলী বাহিনী। আজ, সোমবার, আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতিতে বলেছে, “এই হামলাগুলি দেখে মনে হচ্ছে শত্রুপক্ষ (ইসরায়েল) দেউলিয়া হয়ে গেছে।”

ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে তহবিল দিচ্ছে আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংক। এই কারণে তারা লেবানন জুড়ে ব্যাংকটির শাখাগুলিতে হামলা চালিয়েছে।

তবে, আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, তাদের ব্যাংকের শাখাগুলিতে এমন হামলা শত্রুপক্ষের (ইসরায়েলের) দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সাথে, এটি বোঝা যাচ্ছে যে ইসরায়েল এখন কোথায় হামলা চালাবে তা খুঁজে পাচ্ছে না। এই কারণে তারা এলোমেলোভাবে হামলা চালাচ্ছে। এই হামলাগুলির অর্থ হল ইসরায়েল এখন লেবাননে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংক তাদের বিবৃতিতে বলেছে যে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা জনসাধারণের আমানত এবং আস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যাংক কর্মীদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সাথে, ব্যাংকটি আরও দাবি করেছে যে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তাদের ব্যাংকের শাখাগুলি খালি ছিল।

তবে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই দাবিগুলি বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে, হামলার শিকার ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে অন্য কোথাও রাখা হলেও, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর গতকাল রাতে দেওয়া ঘোষণার পর থেকে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, রাজধানী বৈরুতে অর্থ রেখেছেন এমন আমানতকারীরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বৈরুতে ব্যাংকটির ১৫টি শাখা রয়েছে।

আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিটি হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে অনলাইন মাধ্যমেও প্রচার করেছে। বিবৃতির শেষের দিকে, ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে একটি প্রবাদ উল্লেখ করা হয়েছে, “চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত”। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের বেসামরিক স্থাপনা এবং অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

লেবাননের ব্যাংকে হামলার ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্টজ স্বাগত জানিয়েছেন। একই সাথে, তিনি বলেছেন, আল-কারদ আল-হাসান ব্যাংকে এমন হামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার প্রাক্তন এই সদস্য বেনি গান্টজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হিজবুল্লাহকে ইরান প্রতি বছর ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে।

লেবাননের মতো আর্থিকভাবে দুর্বল একটি দেশের জন্য এটি প্রচুর অর্থ বলে মন্তব্য করেছেন বেনি গান্টজ। তিনি টুইটারে আরও লিখেছেন, “এর ফলে যা হয়েছে তা হল লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈন্যরা খাদ্য সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে। পাশাপাশি, হিজবুল্লাহ সদস্যদের পরিবারও নিয়মিত খাবার পাচ্ছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *