চট্টগ্রামের তিন শিল্প গোষ্ঠীর সাথে বিএসইসির বৈঠক
সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চট্টগ্রাম ভিত্তিক তিনটি শিল্প গোষ্ঠী, পিএইচপি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বিএসআরএম গ্রুপ এবং প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য শেয়ারবাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা।
বৈঠকটি গত সোমবার চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্প গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে পিএইচপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলিহোসাইন আকবর আলী এবং প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর উপস্থিত ছিলেন। বিএসইসির পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এছাড়াও বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং সংস্থাটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পিএইচপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান বলেন, "আইন মেনে সততা, নিষ্ঠা এবং বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে বেসরকারি খাতও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরে পিএইচপি গ্রুপ সুনামের সাথে এই কাজটি করছে।"
বৈঠকে বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলিহোসাইন আকবর আলী বলেন, "পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসনও নিশ্চিত করে।" তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার ডি-ম্যাট ফরমে রাখার ক্ষেত্রে অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা উচিত।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, "তৈরি পোশাক খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনার জন্য বড় অঙ্কের চলতি মূলধন প্রয়োজন। কিন্তু পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালায় পুঁজির ব্যবহার নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার এলে তৈরি পোশাক খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।"
বিএসইসির পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয় যে, ভালো মৌলভিত্তি এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্প গোষ্ঠীর বিভিন্ন কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বিএসইসি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে বিএসইসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, "যেসব কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে সাফল্য এবং সুনামের সাথে ব্যবসা করছে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, তাদের শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ আমাদের কাম্য।"
বৈঠকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিভিন্ন বিষয়, তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা এবং জটিলতা, তালিকাভুক্তির পর যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে বিএসইসি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি জানিয়েছে যে, এই বৈঠক এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে ভবিষ্যতে দেশের শেয়ারবাজারে আরও মানসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে বলে তারা আশা করছে। এটি পুঁজিবাজারে নতুন গতি আনবে এবং বাজার আরও প্রাণবন্ত রূপ পাবে।