বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের চাহিদায় উর্ধ্বগতিতে ইফাদ অটোসের শেয়ার
দেশের শীর্ষস্থানীয় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সর্বাধিক মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে ইফাদ অটোস। সারা সপ্তাহে অব্যাহত দরপতন সত্ত্বেও, কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫ টাকা ৩০ পয়সা বা ২৪ শতাংশেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৩০ পয়সায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে গত সোমবার বাংলাদেশের বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে এই আলোচিত মোটরসাইকেলটি নিয়ে এসেছে ইফাদ গ্রুপের অংশীদার প্রতিষ্ঠান ইফাদ মোটরস। সারা সপ্তাহ ধরে, তরুণ ও মোটরসাইকেল প্রেমীদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ডই আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। তরুণ ও মোটরসাইকেল প্রেমীদের প্রবল আগ্রহের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইফাদ অটোসের শেয়ারের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে দরপতনের বাজারেও কোম্পানিটির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
তবে, কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, রয়্যাল এনফিল্ডের প্রতি তরুণদের আগ্রহ থাকলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইফাদ অটোস লাভবান হবে না। কারণ, রয়্যাল এনফিল্ডের বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইফাদ গ্রুপেরই অংশীদার প্রতিষ্ঠান ইফাদ মোটরস। আর যে কোম্পানির শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত, সেটি ইফাদ অটোস। একই গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হলেও, দুটি কোম্পানির ব্যবসা এবং আর্থিক হিসাব আলাদা। ফলে, এই মোটরসাইকেলের বিক্রি ইফাদ অটোসের কোনো আর্থিক সুবিধা নিয়ে আসবে না। সুবিধাটি উপভোগ করবে গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান।
তবে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগই ধরে নিয়েছিলেন যে রয়্যাল এনফিল্ডের প্রতি তরুণদের প্রবল সাড়ার ফল ইফাদ অটোস ভোগ করবে। এই আশায় যে কোম্পানির আয় বা ব্যবসা বাড়তে পারে, তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইফাদ অটোসের কোম্পানি সচিব সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে জানান যে, রয়্যাল এনফিল্ড বাজারজাতকারী ইফাদ মোটরসের সঙ্গে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইফাদ অটোসের ব্যবসায়িকভাবে কোনো সম্পর্ক নেই। দুটি প্রতিষ্ঠানই একই গ্রুপের হলেও, তাদের ব্যবসায় আলাদা। ফলে, রয়্যাল এনফিল্ডের বিক্রি থেকে ইফাদ অটোস কোনো সুবিধা পাবে না।
এদিকে, গত সোমবার রাজধানীতে রয়্যাল এনফিল্ডের বিক্রি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর মঙ্গলবার থেকে শেয়ারবাজারে ইফাদ অটোসের শেয়ারের লেনদেন এবং দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৪ টাকা বেড়েছে। এই সময়ে প্রায় ৩৪ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে।