জাতীয় পার্টির কার্যালয় হামলা: বিএনপির প্রতিক্রিয়া
জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাকে বিএনপি মনে করছে রাজনীতিতে ‘অযথা ও অপ্রয়োজনীয়’ কাজ। দলটি এটিকে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছে।
এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে, যা অযথা এবং অপ্রয়োজনীয়।”
গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার কে আমরা? জনগণই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
ঘটনার পরদিন ব্র্যাক সেন্টারে এক স্মরণসভা শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটি একটি ষড়যন্ত্র। দেশে অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এই চক্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “যা কোনো ইস্যুই নয়, সেই ইস্যুকে সামনে এনে নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
বিএনপির মিত্র জোট গণতন্ত্র মঞ্চও জাতীয় পার্টি ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছে।
দলটি এড়িয়ে চলার কারণ
সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ‘দোসর’ বিবেচনা করে রাজনীতিতে কোণঠাসা বা অকার্যকর করার কৌশল নিয়েছে এই মর্মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন করছে। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারও দলটি এড়িয়ে চলছে।
এ কারণে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক সংলাপে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় পার্টিকেও বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দেয়।
এর রেশ ধরেই গত বৃহস্পতিবার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র, শ্রমিক, জনতা’ ব্যানারে এক দল লোক হামলা ও আগুন দেয়।
ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে জাতীয় পার্টির অবস্থান ইতিবাচক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও দলটি এখনো প্রকাশ্যে আসতে পারেনি। এদিকে, জাতীয় পার্টির প্রধান জি এম কাদের এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিগত নির্বাচনগুলোতে জাতীয় পার্টিকে কিভাবে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির এক উচ্চপদস্থ নেতা বলেন, “আমাদের জন্য রাজনীতিতে একটি অবস্থান প্রয়োজন ছিল। সেটা এখন হয়েছে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দায়সারা
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে এতটা কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, পুরো নেতৃত্বেরও এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছিল না। এটা কয়েকজনের ব্যক্তিগত খেদ অথবা অতি উৎসাহের ফল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করা ছাত্ররা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
তবে গতকাল শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম তাদের ফেসবুক পেজে একটি একই ধরনের পোস্ট দেন। তারা লিখেন, “যেই পথে গেছে আপা, সেই পথেই যাবে জাপা।”
অর্থাৎ, শেখ হাসিনা যে পথে গেছেন, জাতীয় পার্টিও সেই পথে যাবে। তবে জাতীয় পার্টির নেতারা এই অবস্থানকে দলটিকে রাজনীতি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতার মন্তব্য
গণতন্ত্র মঞ্চের এক শীর্ষ নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব অথবা ছাত্রদের জড়িত হওয়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “ফ্যাসিবাদীদের এবং তাদের সহযোগীদের রাজনৈতিকভাবেই আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।”