• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন |

গুজব-গুঞ্জনে রাঙা হল জল্পনা-কল্পনার ঘর

জল্পনা আর কল্পনা মিলে সংসার বানায়। যমল সন্তান পায়—এক ছেলে, এক মেয়ে। নাম হয় গুজব আর গুঞ্জন। বড় হয়ে গুজব-গুঞ্জন ফেকলুকে অ্যাকাউন্ট খুলে। তাদের বাবা-মার তো ফেকলুক ছিল না। একদিন ছেলে-মেয়ে বলে, ‘আব্বু, আম্মু, তোমরাও ফেকলুকে আসো। দেখবা এখানে সব আমরা আমরাই। কী মজা!’
জল্পনা আর কল্পনা বাধ্য হয় সন্তানদের কথামতো চলতে। ফেকলুকে অ্যাকাউন্ট খুলে বলে, ‘আহা! সত্যিই তো! ফেকলুকে তো দেখি সব আমরা আমরাই! কী গুজব, গুঞ্জন, জল্পনা, কল্পনা!’
তখন থেকেই জল্পনা, কল্পনা, গুজব, গুঞ্জনদের দিন কেটে যায় আনন্দ-উল্লাসে। ফেকলুকে তারা অনেক বন্ধু বানায়। ফ্রেন্ডস অব ফ্রেন্ডসসহ সব জায়গায় তাদেরই আলোচনা। কী মজা! কী মজা!
একদিন খবর হল হীরক রাজার পরিষদ সভা হয়েছে। হীরক রাজা ফিরেছেন? ফেকলুকে যখন আছে, নিশ্চয়ই তিনি ফিরেছেন। কিন্তু সভাতে আলোচনা হল কিসের?
গুজব, গুঞ্জন, জল্পনা, কল্পনা—এরাই সবার প্রিয়। আহা! এই না হলে ফেকলুক! সবাই একই পরিবারে! কী চাওয়া!
বাস, মেট্রো, সড়ক, মহাসড়ক, অফিস, বাজার, ঘর, বাইরে—সব জায়গায় শুধুই গুজব, গুঞ্জন, জল্পনা, কল্পনা।
কেউ আর মোবাইল স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে পারে না। হঠাৎ দেখা যাচ্ছে তালপুকুরে কুমিরের বাসা হয়েছে। সবার লাইক, শেয়ার চলছে। আবার একটা গ্রাফিক্স কার্ড ঘুরছে সব জায়গায়। কোথায় যেন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খেলেছে একজন খেলোয়াড়। ফেকলুকে আছে, তো হয়েই থাকবে। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার চলছেই চলবে।
একদিন খবর হল হীরক রাজার পরিষদ সভা বসেছে। হীরক রাজা ফিরেছেন? ফেকলুকে আছে, তো তিনি নিশ্চয়ই ফিরেছেন। সভায় আলোচনা হয়েছে কী? এরপরই ফেকলুকে আসলো একটা ভিডিও।
ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়—হীরক রাজার মাথার উপর একজন পাখা দোলাচ্ছে। সামনে বসা পারিষদরা মাথা নেড়ে যাচ্ছে। হীরক রাজা কিছু বলছেন না। চোখ বুজে কিছু ভাবছেন। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন, ‘হীরা, চুনি, পান্না… আর হবে না।’ সবার মাথা আরও জোর জোর করে নেড়ে গেল। এবার সবাই একসঙ্গে বলতে লাগল, ‘হীরা, চুনি, পান্না… আর হবে না।’
ভিডিও শেষ।
এরপর ফেকলুকের পাশাপাশি রিউকিউবও সচল হল। ভিডিওর পর ভিডিও আসতে লাগল। হীরা, চুনি, পান্না… আর হবে না! নাকে লাগে কিসের গন্ধ? রহস্য নাকি ষড়যন্ত্র? সবাই রাতারাতি বিশেষজ্ঞ হয়ে গেল।
পরের ভিডিওগুলোয় দেখানো হল পাখা দোলানো, হীরক রাজার চোখ বুজে থাকা, পারিষদদের মাথা নেড়ে যাওয়া। সবার উপর সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয় সেই ভিডিও যেখানে হীরক রাজা বলে উঠলেন, ‘হীরা, চুনি, পান্না… আর হবে না।’ ছোট ছোট এসব ভিডিওয়ের নাম দেওয়া হল ‘থ্রিল’!
এসব ভিডিও দেখে ‘থ্রিলার’ সব জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেল। হীরক রাজা আসলে কী বলেছেন? ‘হীরা, চুনি, পান্না… আর হবে না’—এর মানে কী? নিশ্চয়ই এর কোনো গভীর অর্থ আছে। কিন্তু কী সেই অর্থ?
ফেকলুকের পাশাপাশি এবার রিউকিউবও সচল হল। ভিডিওর পর ভিডিও আসতে লাগল। হীরা, চুনি, পান্না… আর হবে না! নাকে লাগে কিসের গন্ধ? রহস্য নাকি ষড়যন্ত্র? সবাই রাতারাতি বিশেষজ্ঞ হয়ে গেল।
একজনকে দেখা গেল হীরার দোকানের সামনে। সে গ্লাসের ভেতর হীরাকে দেখিয়ে বলছে, ‘এই হীরা সেই হীরা নয়?’ আবার আরেকজনকে দেখা গেল ‘হীরাঝিল’ নামের রেস্টুরেন্টের সামনে। সে কী বলছে, বোঝা গেল না, কারণ রাস্তার শব্দে তার কথা শোনা যাচ্ছিল না।
এদিকে ফেকলুকে ছড়ালো হীরা নামের সবাইকে ধরা হবে। কারণ, হীরক রাজা তো বলেছেন, ‘আর হবে না।’ হীরা নামের যে কেউই তো বড়লোক। তাদের সম্পদ এলো কোথা থেকে? গুজব, গুঞ্জন, জল্পনা, কল্পনা। সবার রিসোর্ট কতগুলো? ছাগল কতগুলো? এবার সব বেরিয়ে যাবে। কাউকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হবে না। সব হীরা পলাতে শুরু করল। ঘুমের মধ্যেও তাদের কানে বাজছে সিপাহিদের বাঁশি, সাইরেনের শব্দ।
এখনো পর্যন্ত চুনি নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে পাশের রাজ্যে এক সময় ছিলেন বল পায়ে বিখ্যাত চুনি। তিনি এখন নেই। তবে না থাকলেও কিছু আসে যায় না। চুনি না থাকলে রুবি তো আছে। চুনি মানে তো রুবি। তাহলে হীরক রাজা তো রুবিকেও বলেছেন, ‘আর হবে না।’ তারা তো বাদ যাবে না। ফেকলুকে চলছে ধর ধর রব। গুজব, গুঞ্জন, জল্পনা, কল্পনা, লাইক, শেয়ার, কমেন্ট।
এভাবেই দিনে দিনে গুজব, গুঞ্জন, জল্পনা, কল্পনা জাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *