• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

সাত কলেজে সমস্যা-দাবির বৃত্ত

সমস্যা ও দাবির রশ্মিচক্রে আবদ্ধ সাত কলেজ

প্রায় আট বছর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ রাজধানীর সাতটি বড় সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এই কলেজগুলিকে উন্নতমানের শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই হতাশা, দাবি এবং আন্দোলনের একটি চক্রের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে এই কলেজগুলি।

স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি

এই জটিল সমস্যার কারণে এই কলেজগুলির শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় দাবির আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত রেখে সাতটি কলেজের তত্ত্বাবধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি পৃথক ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীরা এটি মানতে রাজি নয়। তারা বলছেন, এটি যদি আলাদা ব্যবস্থা হয়, তবে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে, অন্য কোনো ভবন বা জায়গায় হতে হবে। এ ছাড়া, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। এজন্য, সনদপত্রে বড় করে লেখা "অ্যাফিলিয়েটেড" শব্দটি বাদ দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিযুক্তি

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সাতটি কলেজের অনুমোদন বাতিলের জন্য 72 ঘন্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার একটি সমাবেশে তারা ঘোষণা করেছে, 72 ঘন্টার মধ্যে এই সাতটি কলেজের অনুমোদন বাতিল না করা হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ভবনে তালা দেওয়া হবে।

অন্যান্য উদ্বেগ

সাতটি কলেজের কয়েকটিতে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি রয়েছে। এই কলেজগুলিকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করলে, উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের ভবিষ্যৎ কি হবে, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া, এই কলেজের শিক্ষকরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। তাই আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় হলে, তারা সেখানে থাকতে পারবেন না।

একটি সমিতির গঠন

এই সাতটি কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক সমস্যা দূর করতে, গত অক্টোবরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি সমিতি গঠন করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছে, যারা উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে ভাবেন, তাদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা হোক এবং, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একাডেমিক সমস্যা

এই কলেজগুলিতে একাডেমিক মানের উন্নতির জন্য কিছু জটিল সমস্যা রয়েছে। যেমন, গবেষণার জন্য বিভাগভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যাও অপ্রতুল। ফলে, কয়েক শ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র 8 থেকে 9 জন শিক্ষক থাকে। এ ছাড়াও, অনেক সময় সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম শেষ না করেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতি রয়েছে, তবে এই সাতটি কলেজে এখনও বর্ষভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছে যে, তারা গবেষণার সুযোগ এড়িয়ে চলে না, বরং মানসম্পন্ন একাডেমিক শিক্ষারও সুযোগ পাচ্ছে না। তারা শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি, বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং পর্যাপ্ত মানের গ্রন্থাগারের অভাবের বিষয়টিও উত্থাপন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সাতটি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে, পরীক্ষাগুলি সময়মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও তেমন বিলম্ব হচ্ছে না। তবে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবেদন

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন, ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান জানিয়েছেন যে, তাদের প্রথম দাবি হলো সাতটি কলেজের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। সাতটি কলেজের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে একটি প্রশাসনিক ভবন থাকতে হবে। সেখানে এই সাতটি কলেজের জন্য আলাদা উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন।

আউটলুক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে, চাপের কারণে কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। পরিবর্তে, দ্রুত আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সমাধান বের করা উচিত, যা সবার জন্য সহজ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *