• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন |

বিদেশনীতি সংস্কারে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন

বৈদেশিক নীতি সংস্কারের আহ্বান

বাংলাদেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশটা ধীরে ধীরে একটা আধা-স্বৈরাচারী শাসন থেকে বেরিয়ে একটা কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান এবং কয়েক হাজার মানুষের ত্যাগের ফলে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। এই পরিবর্তন অনেক আশার কথা বলছে। এই আশা পূরণের জন্য নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। পৃথিবী দেখেছে জনগণ কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে আওয়ামী লীগকে, যারা ১৫ বছর ধরে টানা ক্ষমতায় ছিল, ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিয়েছে। এটা ছিল একটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কিন্তু তারপরেও তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষের আবেগ আর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই পরিবর্তনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

জনগণ চায় বাংলাদেশকে দেশে ও বিদেশে একটা আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা গেছে। ড. ইউনুসের নেতৃত্ব বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ আর উদ্যমকে নতুন করে জাগিয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার, বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে, বিশেষ করে পশ্চিমাদের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পাওয়া গেছে। চীন এবং মালয়েশিয়া, জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক শক্তিগুলো বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এখন জনগণ চায় এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে দেখতে।

বাংলাদেশ সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটা সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। ড. ইউনুসের প্রশাসনকে অবশ্যই নির্বাচনী সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য সারা বিশ্বের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যা প্রয়োজন তা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের পরও ব্যাপক সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।

যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পররাষ্ট্রনীতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সেই পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে থাকবে চারটি প্রধান বিষয়। প্রথমত, দুটো প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন স্বাভাবিকভাবেই ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করবে।

এটা বোঝা দরকার যে পররাষ্ট্রনীতি আর শুধুমাত্র উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতির বিষয় নয়। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে এটা এখন জনসাধারণের পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতের প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের ধারণা হয়ে উঠেছে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। আন্দোলন আমাদের বৈদেশিক নীতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে জোর দিয়েছে। এই আন্দোলন একটা সক্রিয় বৈদেশিক নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। এই নীতি হতে হবে একটা গঠনমূলক বর্ণনা, যা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্বিশেষে আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং জাতীয় ঐক্যমতকে প্রতিফলিত করবে।

পররাষ্ট্রনীতিতে কী সংস্কার করা উচিত

মুখ্য সংস্কার নিহিত থাকা উচিত বর্ণনার মধ্যে। বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় এবং নিবেদিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সমর্থন করে। তবে এটুকুই যথেষ্ট নয়। দেশের সংবিধানের ২৫তম অনুচ্ছেদ রাজনৈতিক, জাতিগত, ধর্মীয় বা জাতিগত সম্পর্কনির্বিশেষে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। আমাদের বৈদেশিক নীতির বর্ণনাগুলো অবশ্যই বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমর্থন করতে হবে। এ জন্য জাতীয় সার্বভৌমত্বকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা দরকার, যাতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে বাইরের পক্ষগুলোর প্রভাবের ওপর সীমারেখা টানা যায়। তবে একটা বিষয়ে সতর্কতাও জরুরি। দেশে ভালো সরকার থাকলেই কেবল এই বর্ণনাগুলো জোরদার হবে।

যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পররাষ্ট্রনীতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সেই পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে থাকবে চারটি প্রধান বিষয়। প্রথমত, দুটো প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন স্বাভাবিকভাবেই ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করবে। অতএব, বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত বাণিজ্যিক উদারতার ওপর ভিত্তি করে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। বঙ্গোপসাগর ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানের সমুদ্র। তাই সন্দেহ নেই যে বাং


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *