• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

মার্কিন নির্বাচন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কেন এত চিন্তিত

আমেরিকার নির্বাচনকে ঘিরে দুনিয়া জুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা চলছে। এই ভোটে দীর্ঘায়িত আমেরিকান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি পর্দা নামতে যাচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরেই বন্ড, শেয়ার আর অন্যান্য সম্পদ হিসেবে বাজারে এই নির্বাচনের প্রভাব ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। ফলাফল স্পষ্ট হতেই বাজারে আরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদ রয়টার্সের।

এ বছরের নির্বাচনটি আধুনিক আমেরিকান ইতিহাসের সবচেয়ে অস্বাভাবিক নির্বাচনগুলির একটি। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটির করব্যবস্থা, বাণিজ্য নীতি এমনকি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও প্রভাবিত করবে। ট্রাম্প জিতলে এক রকম, কমলা জিতলে আবার আরেক রকম।

আগামী বুধবার দুপুর নাগাদই আমেরিকার নির্বাচনের ফলাফল পরিস্কার হয়ে যেতে পারে। যা-ই ফলাফল হোক না কেন, এই নির্বাচনের ফলাফল সারা বিশ্বের সম্পদ বাজারে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। মার্কিন ঋণের ভবিষ্যৎ, ডলারের শক্তি ও কর্পোরেট আমেরিকার মূল ভিত্তিও এর ফলে পরিবর্তিত হতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ লড়াই হবে। এ ছাড়াও এই নির্বাচনের মাধ্যমেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তাও নির্ধারিত হবে। এই পরিস্থিতিতে, বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত যে ফলাফল স্পষ্ট না হলে বা নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বোস্টন পার্টনার্সের গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চের পরিচালক মুলানি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় ৪০ বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা দেখছি যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, এই নির্বাচন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভেঙে দিতে পারে।’

নির্বাচনের দিকে এই মনোযোগের পেছনে বড় কারণ হল মার্কিন শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান। ২০২৪ সালে দেশটির অন্যতম শেয়ার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের প্রায় ২১ শতাংশ উত্থান হয়েছে। শক্তিশালী অর্থনীতি, কর্পোরেট মুনাফার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি ও ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর কারণে শেয়ার সূচকের এই উত্থান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার মুদ্রাবাজারে রাতারাতি বড় ধরনের ওঠানামার বিরুদ্ধে সুরক্ষার দাবি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের পর এই দাবি এটি সবচেয়ে জোরালো।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যত রকমের অনুমান করা হয়েছিল, দেশটির আর্থিক বাজারে তার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জনমত জরিপ ও বাজির বাজারে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে সম্পদের বাজারে প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধি, কর হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ হ্রাসের প্রভাব সম্পদের বাজারে পড়তে পারে। ফলে যাঁরা অনেক দিন ধরে বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরা কিছুটা উদ্বিগ্ন।

এই তথাকথিত ট্রাম্প ট্রেডের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যেমন, মেক্সিকান মুদ্রা পেসোর মূল্য কমে যাচ্ছে। কারণ ট্রাম্পের ট্যারিফ আরোপের সম্ভাবনা মেক্সিকোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ারের দরে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। আঞ্চলিক ব্যাংক ও বিটকয়েনের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলি সেই সুবিধা পেতে পারে।

ট্রেজারি বন্ডের সুদও বাড়ছে। আর বন্ডের মূল্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক বিপরীত। ট্রাম্পের নীতির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

ট্রাম্পের কর হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর নীতি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে পারে। সেই কারণে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে।

জন হ্যানকক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগ কৌশলবিদ ম্যাট মিসকিনের কথায়, ‘নির্বাচন নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা আছে। তাই বাজার উঠানামা করছে।’

হ্যারিসের বিজয়ে অবশ্য ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বাজারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও করের হার বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। কর্পোরেট আমেরিকায় এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে যে প্রার্থীই জিতুন না কেন করনীতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হলে তাঁর কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।

ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, নির্বাচনের বছরের শেষভাগে মার্কিন শেয়ারবাজার ভালো করে, যে দলেরই জয় হোক না কেন। কারণ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্পষ্টতায় বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পান। কিন্তু এ বছর বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ব্যবধান খুব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *