ইন্টারনেট সরকারই বন্ধ করেছিল
১০ই জুলাই ২০২৪ সাল, বিক্ষোভ-বিক্ষুব্ধ ঢাকা শহর। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কাঁপছে ছাত্রদের গর্জনে। ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির কারণে শহরের সড়কগুলো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের খবর ১৪ই জুলাই মধ্যরাতে এলো। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদমুখর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে বলে খবর। ১৬ই জুলাই বিক্ষোভী রংপুরে আবু সাঈদ নামের এক ছাত্র নিহত হন।
ইন্টারনেটে আরও নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা ছিলই। সেটাই ঘটলো। ১৭ই জুলাই, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হলো। পরের দিন আন্দোলন আরও তীব্র হলো। হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুকে মেসেজ পাঠাতে গিয়েই বোঝা গেল, এবার দেশের মানুষ পুরোপুরি ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
প্রশ্ন উঠতে লাগলো, ফিরবে কবে ইন্টারনেট? প্রাক্তন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বললেন, মহাখালীতে কিছু দুষ্কৃতিকারী ডেটা সেন্টারে আগুন দিয়েছে। ইন্টারনেট ফিরতে কত দিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
খুব ভালো করেই জানতাম, ডেটা সেন্টারকে কোনো ক্ষতিই হয়নি। বরং পাশের দুর্যোগ ভবনটিকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৮শে জুলাই ‘প্রথম আলো’ অনলাইনে আমরা জানিয়ে দিলাম, সরকার মিথ্যা বলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনও স্বীকার করে যে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল সরকারি নির্দেশে।
২৩শে জুলাই প্রতিবাদকারীদের ‘নাটক কম করো পিও’ স্লোগানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই ‘নাটক’ দেখার অজুহাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সাংবাদিকদের মহাখালীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ডেটা সেন্টার দেখাতে এসে প্রতিমন্ত্রী পলক একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
পাঁচ দিন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার পর ২৩শে জুলাই ধীরে ধীরে সেটি সচল করা হলো। তবে, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ রাখা হলো। সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিমন্ত্রী পলক ফেসবুকে সক্রিয় থেকে নিয়মিত পোস্ট দিচ্ছিলেন। ১০ দিন পর মোবাইল ইন্টারনেট চালু হলো। আর ১৪ দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো চালু করা হলো।
শেষ দিনের ঘটনাও মনে রাখার মতো। ৫ই আগস্ট বেলা ১১টার দিকে খবর এলো, এবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাঠকদের হালনাগাদ তথ্য দেওয়া আবারও বন্ধ। কিন্তু একটু পরেই পরিস্থিতি বদলে গেল। দুপুরে সেনাপ্রধান বক্তব্য দেবেন।
বেলা দেড়টার দিকে ইন্টারনেট ফিরে এলো। কিছুক্ষণ পর চারিদিকে মানুষের উল্লাসের শব্দ ভেসে আসতে লাগলো। শোনা গেল, শেখ হাসিনা বিশেষ বিমানে পালিয়ে গেছেন।
সুহাদা আফরিন: নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো