• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন |

সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে আশা-নিরাশার মিশ্রণ

নিরঙ্কুশ জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেবেন, সেটি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন ও লেবাননের বাসিন্দারা।

ট্রাম্প তার নির্বাচনী অভিযানে ইউক্রেনের মতো মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জিতলে গাজায় ইসরায়েল-হামাস এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ বন্ধ করবেন বলে জোর গলায় দাবি করেছেন। তবে, ঠিক কীভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ করবেন, সে বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যদি জো বাইডেনের পরিবর্তে তিনি ক্ষমতায় থাকতেন, তাহলে ইরানের ওপর তার কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালাত না। হামাস হলো ইরান সমর্থিত গাজার ফিলিস্তিনিদের একটি সশস্ত্র সংগঠন।

ইরান সম্পর্কে মোটামুটিভাবে ট্রাম্প তার আগের কৌশলই ফিরিয়ে আনবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যেমন, তিনি ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে রাখবেন। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। ট্রাম্পের শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছিল।

অতীতে ক্ষমতায় থাকার সময় ট্রাম্প কট্টরভাবে ইসরায়েলপন্থী নীতির পক্ষে ছিলেন। তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে গিয়েছিলেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ‘হোয়াইট হাউসের ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলে বর্ণনা করেছেন। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এই অঞ্চলের অস্থির পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করতে পারে।

শুধু জেরুজালেম প্রশ্নেই নয়; বরং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ বা ‘আব্রাহাম চুক্তি’ করার সময়ও ফিলিস্তিনিদের দাবিগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন ট্রাম্প। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগে ২০২০ সালের শেষ দিকে আব্রাহাম চুক্তি সই হয়। নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের সম্পর্কটি বেশ জটিল, মাঝে মাঝে অকার্যকরও হয়েছে। তবে, নিশ্চিতভাবেই নেতানিয়াহুর ওপর চাপ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্পের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *