• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন |

‘চাঁদাবাজদের নিরপেক্ষ তালিকা করছে র‍্যাব, যেকোনো সময় অভিযান’

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) দেশজুড়ে চাঁদাবাজ সদস্যদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করে এই কর্মকর্তা বলেন,  র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।  তিনি বলেন, কত দিনের মধ্যে এই তালিকা সম্পন্ন করা হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। আজকেও হতে পারে।

চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরিবহন খাতে মহাসড়ককেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি করা, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

র‍্যাব বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সে ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তবে কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের মালিকের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উইং কমান্ডার বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে র‍্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা ধরা পড়ে তারা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়। এক দিনে সব হয় না, কিন্তু আমাদের চেষ্টা চলমান থাকে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *