• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন |

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৮৮% ‘ডেন-২’ ধরনে আক্রান্ত

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৮৮ ভাগই ‘ডেন-২’ ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৬ শতাংশ।

এই গবেষণা আরও প্রকাশ করেছে যে গত বছরের প্রায় অর্ধেক ডেঙ্গু রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সে ডেন-২-এর একটি নতুন উপধরন ‘কসমোপলিটন লিনিয়েজ’ পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই কসমোপলিটন লিনিয়েজের কারণে রোগীদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয় এবং মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি থাকে।

চট্টগ্রামে চলমান ডেঙ্গু গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এটি পরিচালনা করছে এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন, আইসিডিডিআরবি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ। গত বছর এবং চলতি বছরে এই গবেষণার অধীনে যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০০ জন রোগীর উপর জরিপ গবেষণা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৮৮ শতাংশের শরীরে ডেন-২ ধরন পাওয়া গেছে। বাকি ১১ শতাংশ রোগীর মধ্যে ডেন-৩ ধরন শনাক্ত হয়েছে।

২০২৩ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৬৯ শতাংশ ডেন-২ সেরোটাইপে আক্রান্ত ছিল। গত বছরের ডেঙ্গু রোগীদের জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীর মধ্যে ডেন-২-এর কসমোপলিটন লিনিয়েজ উপস্থিত ছিল। চিকিৎসক এবং গবেষকরা মনে করছেন, এই কসমোপলিটন ভেরিয়েন্টের কারণেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চলতি বছরের ডেঙ্গু আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্স করার পর সেখানে কসমোপলিটন লিনিয়েজ উপস্থিত রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আদনান মান্নান বলেছেন, “বাংলাদেশে কসমোপলিটন লিনিয়েজ একেবারেই নতুন। এটির কারণে রোগীদের অবস্থা খুব দ্রুত খারাপ হয়।”

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে পাওয়া কসমোপলিটন ধরনটি বাংলাদেশের অন্যান্য সব অঞ্চলে পাওয়া আগের ধরনের চেয়ে ভিন্ন। ফাইলোজেনেটিক বিন্যাসের বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে যে এই ধরনটি মিয়ানমার এবং ভারতে বিদ্যমান। সম্ভবত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বা পর্যটকদের মাধ্যমে এই ধরনটি এখানে এসেছে।”

গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ ছিল পুরুষ। প্রতি পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে একজন ছিল শিশু। এ ছাড়া চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি এলাকাকে ডেঙ্গু হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ৬০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর আবাসস্থল মূলত পাঁচটি এলাকায়—বাকলিয়া, চকবাজার, কোতোয়ালি, ডবলমুরিং এবং বায়েজিদ বোস্তামী। গ্রামাঞ্চলে সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, পটিয়া, বোয়ালখালী এবং কর্ণফুলী এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে।

চলতি মাস পর্যন্ত এই গবেষণায় ২০০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩৩৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। সর্বশেষ গতকাল নূর উদ্দিন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এবার নগরের কোতোয়ালি এবং বাকলিয়া এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

গত বছর মোট ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তখন ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

গবেষকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরে আরও রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করা হবে। এই জিনোম সিকোয়েন্সগুলো জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটার (জিআইএসএআইডি)-এ জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি গবেষণাপত্র ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান জার্নাল অব মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি এবং আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন জার্নালে গৃহীত হয়েছে।

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে এই গবেষণা দলে আছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, আবুল ফয়সাল মো. নুরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আদনান মান্নান এবং এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রব।

মো. আবদুর রব বলেন, “ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার কারণ অনুসন্


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *