বীরেন্দর শেবাগ নাকি টিম সাউদি—কে আসলে বড় ছক্কাবাজ?
প্রশ্নটা কিছুটা অবান্তর মনে হতে পারে। শেবাগ আর সাউদির তুলনাই বা কীসের? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, সাউদি আসলে ব্যাটসম্যানই না। ওর ব্যাটিং যদিও কিছুটা চলে, তবু প্রধান পরিচয় তো পেসার। বড়জোর বলা যায় ‘মিনি অলরাউন্ডার’। সেই সাউদির সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ওপেনারদের একজন শেবাগের তুলনা কীভাবে চলে?
যদিও সাউদির খেলা দীর্ঘদিন অনুসরণ করেছেন এমনদের কাছে সাউদির ছক্কা খুব নতুন কিছু মনে হবে না। নিউজিল্যান্ডের এই পেসার খুব বেশি বড় ইনিংস খেলেন না ঠিকই কিন্তু সুযোগ পেলেই দু-একটা ছক্কা মেরে দেন। আর এভাবেই এখন ছক্কার সংখ্যায় শেবাগকে ছাড়িয়ে ফেলেছেন।
ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালোর টেস্টের তৃতীয় দিনে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে সাউদি ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। ৭৩ বলের ইনিংসে চারটি ছক্কা মেরেছেন এই ডানহাতি। এর মধ্যে ইনিংসের ৮১তম ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের বলে মারা তৃতীয় ছক্কায় শেবাগকে ছাড়িয়ে যান। ভারতের সাবেক ওপেনার ১০৪ টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮০ ইনিংসে মেরেছিলেন ৯১টি ছক্কা। সাউদি ১০৩তম টেস্টে ১৪৮ নম্বর ইনিংসেই তাঁকে টপকে গেছেন।
শেবাগের আগেই ব্রায়ান লারা (৮৮), ক্রিস কেয়ার্নস (৮৭), ভিভ রিচার্ডস (৮৪), অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ (৮২), ম্যাথু হেইডেন (৮২) এর মতো ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলেছেন সাউদি। তার ছক্কার সংখ্যা এখন ৯৩।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬তম বছর খেলছেন সাউদি। তবে তিনি ছক্কায় কিছু বড় করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিজের প্রথম ম্যাচেই। ২০০৮ সালের মার্চে নেপিয়ারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯টি ছক্কা হয়েছিল। সবকটিই মেরেছিলেন সাউদি।
টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কার তালিকায় সাউদির নাম এখনো শীর্ষ পাঁচে আসেনি। তবে অবস্থান খুব কাছেই। ২৮০ ইনিংসে ৯৭ ছক্কা নিয়ে পাঁচে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস। সাউদির নাগালে আছেন ক্রিস গেইল (১৮২ ইনিংসে ৯৮), অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (১৩৭ ইনিংসে ১০০)।
তবে ক্যালিস, গেইল, গিলক্রিস্ট কেউই এখন আর খেলছেন না। ১০৭ টেস্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রেন্ডন ম্যাককালামও এখন ইংল্যান্ডের কোচ। সাউদির লক্ষ্য একজনই হতে পারেন। ১৩১ ছক্কা নিয়ে সবার উপরে থাকেন বেন স্টোকস। যদিও তার মত টেলএন্ডার ব্যাটসম্যানের জন্য এটা বেশ কঠিন, তবু বেশ কয়েকটি বড় নাম পেছনে ফেলে সাউদি এরই মধ্যে ছক্কাবাজ তো হয়েই গেছেন!
সাড়ে তিন বছর পর ঘরে টেস্ট জিতল পাকিস্তান