• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন |

কালিয়ার চুরির ঘটনায় আতঙ্ক

**নড়াইলের কালিয়ায় চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা**

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গত দেড় মাসে এ উপজেলায় অন্তত ১১টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ ও মামলা করা হলেও অপরাধীদের এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। এতে করে দিনে দিনে বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি।

সবশেষ বুধবার রাতে কালিয়া পৌরসভার শিশু বিদ্যানিকেতন থেকে দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে চারটি পাখা ও জানালার গ্রিল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কালিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায়। এর আগে ১০ অক্টোবর সোনামণি ঘোষের বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, চারটি মোবাইল ফোন ও ৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা চুরি করা হয়। এ ঘটনায় সোনামণি ঘোষ ১২ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোনামণির মেয়ে তনিমা ঘোষ বলেন, “শুধু আমাদের বাড়ি নয়, পাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতেও চুরি হয়েছে। সব কটি বাড়ি মূল সড়কের পাশে। আর সব কটি চুরির ঘটনাই একেবারে একই রকমভাবে ঘটেছে, জানালা ভেঙে।”

এর আগে গত ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার শালবরাত গ্রামে নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কেয়া দাসের বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে কিছু মূল্যবান জিনিস চুরি করা হয়। কেয়া দাস জানান, ঘটনার দিন তিনি বাবার বাড়িতে ছুটিতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, জানালার গ্রিল কেটে শোকেস থেকে দুটি সোনার চেইন, তিন জোড়া কানের দুল, দুটি সোনার আংটি ও তিন জোড়া রুপার নূপুর, একটি মোবাইল ফোন এবং ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা। এ ছাড়া তার স্বামীর পাসপোর্টও চুরি হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রামনগর এলাকার লিটু শেখ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর মিলন কাজীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। রামনগরের সুশান্ত দাস এবং বৈদ্যপটি এলাকার সুব্রত দাসসহ আরও বেশ কিছু স্থানে চুরির খবর পাওয়া গেছে। প্রায় সব কটি ঘটনায় চোরেরা সড়কের পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাড়িগুলোতেই আক্রমণ চালিয়েছে।

চোরদের গ্রেপ্তার ও চুরি রোধে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়া থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, “চুরির ঘটনা বেড়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। দু’দিন আগে একটি চোরকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে চোরদের তালিকা রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই বাকি ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করতে পারব।” রাতে কালিয়া বাজার ও অন্যান্য চুরির ঘটনার এলাকাগুলোতে পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

যদিও পুলিশের আশ্বাসন সত্ত্বেও এখনও আতঙ্ক কাটাতে পারেনি স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী কেয়া দাস বলেন, “এসব চুরির ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমার মনে হয় এসব ঘটনার পেছনে একটি চক্র জড়িত।”

চুরির ঘটনার পর থেকেই ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন কেয়া দাস। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি বাজারের ঠিক উপরে। বাড়িতে আমি, আমার স্বামী ও মেয়ে থাকি। যেভাবে জানালার গ্রিল কেটে চুরি হয়েছে, তাতে স্বামী যখন বাড়িতে থাকেন না তখন মেয়েকে নিয়ে ভয়ে থাকি। এখন অন্য কোনো নিরাপদ বাড়িতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

চুরির ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী মিলন কাজী। তিনি বলেন, “আমাদের বউ-বাচ্চাকে একা রেখেও ভয় লাগছে। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *