• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন |

পঞ্চগড়ে ১২ কোটি টাকা খরচে নির্মিত সুপারমার্কেট পড়ে আছে

**পঞ্চগড় পৌর সুপার মার্কেটে ১২ কোটি টাকার অপচয়**

দোকান বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল কয়েকবার। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চকচকে নতুন ভবনটি এখনো খালি পড়ে আছে। মূল ফটক বন্ধ। বাইরে নানা রকম গাছ লাগানো হয়েছে। ভেতরে ছোট-বড় আকৃতির দোকান ঘর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এগুলোর ব্যবহার না হওয়ায়, কিছুর শাটার নামানো, আবার কিছুর শাটার উঠানো অবস্থায় আছে। এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে দুই বছর আগে নির্মিত পঞ্চগড় পৌর সুপার মার্কেটে।

জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায়, পঞ্চগড় পৌরসভা ভবনের সামনে, পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের পাশে, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর মার্কেটটির অবস্থানের জন্য ব্যবসায়ীরা দোকান ভাড়া নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, এমনটা জানা গেছে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, দোকান বরাদ্দ দিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই মার্কেটে, যেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং, নামাজঘরসহ নানা রকম সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেখানে খুব শিগগিরই দোকান বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে।

পঞ্চগড় পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের জুলাই মাসে ‘তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতীকরণ (সেক্টর) প্রকল্পের (ইউজিআইআইপি-৩)’ আওতায়, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে, ৬ তলা ভিত্তিবিশিষ্ট একতলা মার্কেটটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করেছে। ২০২২ সালের ২৫ জুলাই নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর পর মার্কেটটি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দুই বছর পরেও চালু করা সম্ভব হয়নি।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কেট নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর, ইতিমধ্যে দুইবার দোকান ভাড়া দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মার্কেটে একটি নামাজঘরসহ বিভিন্ন আকৃতির ৪৬টি দোকানঘর আছে। প্রতিটি দোকান ৬ বছরের জন্য ভাড়া নিতে হলে ১ লাখ টাকা এবং ৩ বছরের জন্য ভাড়া নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। এসব দোকানের প্রতি মাসের ভাড়া, আকারের উপর নির্ভর করে, এক হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া একটি বড় আকৃতির দোকানও আছে। এর ভাড়া অন্যগুলির চেয়ে কিছুটা বেশি।

গত বুধবার বিকেলে, নতুন নির্মিত পঞ্চগড় পৌর সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ একতলা ভবনটি এখন জনশূন্য হয়ে পড়ে আছে।

পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণের পর দুইবার দোকানঘর ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এই কমিটি বৈঠক করে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার বিজ্ঞপ্তি দেবে।

পঞ্চগড় শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান খান বলেন, শহরের প্রধান কেন্দ্র থেকে এই মার্কেটটি কিছুটা দূরে অবস্থিত। এ ছাড়াও, করতোয়া সেতু পার হয়ে যেতে হয় এবং আশেপাশে স্কুলসহ বিভিন্ন সমস্যা আছে। মূলত এসব কারণেই ব্যবসায়ীরা সেখানে দোকান বরাদ্দ নিতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *