**ভোলায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন**
ভোলায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রোববার ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম নাহিদের ওপর প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়েছে, এনটিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি এবং ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন স্থানীয় একদল লোক নিয়ে নাহিদের ওপর হামলা করে। আহত নাহিদ সদর মডেল থানায় আফজাল হোসেনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংবাদিক ও অতিথিরা প্রেসক্লাবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আফজাল হোসেন তার দলবল নিয়ে নাহিদের ওপর হামলা চালায়। তাকে চেয়ার দিয়ে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার চার-পাঁচটি সেলাই লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া নাহিদের ক্যামেরাপার্সন মো. জাফরকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত জাফরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর আফজাল হোসেন আত্মগোপন করেছেন।
রোববার সকালে সাংবাদিক নাহিদের এলাকার লোকজন মানববন্ধনের আয়োজন করে। বক্তারা বলেন, আফজাল হোসেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাহিদের ওপর হামলা করেছে। নাহিদ ও প্রেসক্লাবের সদস্যদের আফজালের লোকজন কিল-ঘুষি ও লাথি মেরেছে। ঘটনায় থানায় মামলা করার পরও পুলিশ আফজালকে গ্রেপ্তার করছে না। বক্তারা দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।
ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে, এইচ এম নাহিদ জানিয়েছেন, ৫ জুলাইয়ের আগে ভোলা প্রেসক্লাবে দুটি কমিটি ছিল। পরে তিনটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপি-সমর্থিত একটি পক্ষ বিনা ভোটে কমিটি গঠন করতে চায়, অন্যরা চায় সাধারণ সদস্যদের ভোটে কমিটি হোক। আফজাল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ সম্পাদক হতে চাচ্ছে। নাহিদ তা প্রতিবাদ করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আফজাল তার ওপর হামলা চালায়।
তবে আফজাল হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ৫ জুলাইয়ের আগে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা আরেকটি কমিটি গঠন করেছে। অনেকেই প্রেসক্লাবের সদস্যপদও পায়নি। নতুন কমিটি গঠনের সময় বিদ্রোহী কমিটির সদস্যরা বহিষ্কৃত সাংবাদিকদের সদস্যপদ দিয়ে ও নতুন সদস্য তৈরি করে নির্বাচন করার এবং নাহিদসহ তিনজনকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাহী কমিটিতে রাখার শর্ত দেন। এটা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। এ নিয়ে নাহিদসহ তার পক্ষের লোকদের সঙ্গে আফজালের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই নাহিদ ফেসবুকে আফজালকে নিয়ে কটূক্তি করে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাহিদ গালাগাল ও হাতাহাতি শুরু করলে হামলার ঘটনা ঘটে।