**জার্মানিতে অভিবাসীদের জন্য জার্মান শেখাটা কতটা জরুরি**
জার্মানিতে অভিবাসীদের সব স্তরের কাজেই জার্মান শেখা বাধ্যতামূলক না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি খুবই দরকারি।
শ্রীলঙ্কার বাস চালক দুলজ মাধুশন বলেন যে তার নিজের দেশের বাস চালানোর লাইসেন্স আছে, কিন্তু ভাষার দক্ষতা না থাকার কারণে তিনি বার্লিনে তার দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি করতে পারছেন না।
মাধুশন জানান, তিনি ভেবেছিলেন জার্মানিতে কাজ পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। পেশাদার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঝারিমানের জার্মান ভাষা দক্ষতাও প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কোথায় ভাষা শিখবেন বা তার শ্রীলঙ্কান ড্রাইভিং লাইসেন্স কীভাবে জার্মানিতে সঠিকভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাননি। এ ব্যাপারে জানতে গেলে বেফাওগের (বার্লিনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অপারেটর) অফিসে ইংরেজিতেও তার জন্য সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
অ্যামাজনের গুদামে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে মাধুশন দেখেছেন সেখানকার অধিকাংশ কর্মী ভারত, আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশ থেকে আসেন। তারা ইংরেজিতে কথা বলেন। এ ধরনের কাজে জার্মান শেখার প্রয়োজনতা তেমন নেই, কিন্তু পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চালানোর ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা জানা ছাড়া উপায় নেই।
এ প্রসঙ্গে ভাষাবিদ ব্রিটা স্নাইডার বলেন, ‘জার্মানির অনেক কর্মস্থলেই জার্মান না জেনেও কাজ করা সম্ভব, যদি সেটা বহুভাষিক কর্মস্থল হয়। তবে সরকারের ভাষা শেখার কোর্সগুলো এতই দীর্ঘ সময়ের হয় যে বেশিরভাগ অভিবাসীর জন্য সেগুলো শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেক সময় কাজের পাশাপাশি ভাষা শেখাটাও কষ্টকর।’
আন্তর্জাতিক অভিবাসী নেটওয়ার্ক ‘ইন্টারনেশনের’ জরিপ অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলোর তালিকায় ৫৩টি দেশের মধ্যে জার্মানি রয়েছে ৫০তম স্থানে।
অপরদিকে, ওইসিডির ২০২৩ সালের ‘ট্যালেন্ট অ্যাট্রাক্টিভনেস’ তালিকায় ৩৮টি দেশের মধ্যে জার্মানির স্থান হলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো দেশের পেছনে।
এ ছাড়াও জার্মানির রাজনৈতিক আলোচনায় অভিবাসীদের সমাজে অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশটি ধীরে ধীরে বহুভাষিক হয়ে উঠছে। জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির কারণে বহু ভাষাভাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকে।
স্নাইডার বলেন, ‘বহুভাষিক হওয়াটা সামাজিক বাস্তবতা, যেখানে সবসময় জার্মান ভাষারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে না।’
তবে মাইনজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বার্ন্ড মেয়ার বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই জার্মান ভাষা জানা জরুরি, বিশেষত হাসপাতালে। কারণ সেখানে কেয়ারগিভারদের (পেশাদার সেবাদানকারী) একে অপরের সঙ্গে, রোগীদের সঙ্গে ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এ ছাড়াও জার্মানির কর্মসংস্থান সংস্থাগুলো বর্তমানে তুর্কি ও রুশ ভাষাভাষীদের নিয়োগ দিতে শুরু করেছে, যা বহুভাষিক সমাজ গড়ার দিকে একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।’