**চাঁদা না পেয়ে হানা-বানা, লুটতরাজ**
নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলায় চাঁদা না পাওয়ায় এক দল লোক একটি দোকান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। গতকাল শনিবার দুপুর প্রায় ১২টায় উপজেলার চর জুবলি ইউনিয়নের পাংখার বাজারে কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন একটি ভবন ও তার পাশের জমিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করার পর পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি দল পাংখার বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে একটি ভবন ও তার পাশের জমি দখল করতে আসে। সেই সময় ওই জমির মালিক কামাল হোসেনের লোকজন বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা কামাল হোসেনের দুই ছেলেসহ অন্তত ছয়জনকে মারধর করে একটি রুমে আটকে রাখে। তারা জমিতে অবস্থিত দোকান ও একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলার জানালাও ভাঙচুর করে। এছাড়াও তারা নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
হামলার শিকার চর মধ্যম বাগ্গা গ্রামের কামাল হোসেন (৬০) জানিয়েছেন, পাংখার বাজারের কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে তার বাসা ও একটি দোকানের জমি রয়েছে। দোকানের জমিতে তিনি ভাঙারি মালামালের ব্যবসা করেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জসিম উদ্দিন ও মাইন উদ্দিন নামের দুই বিএনপি নেতা তাকে ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করে এবং নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। তারা জানায়, দোকান ও জমি দখলে রাখতে হলে তাদের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। কামাল হোসেন জানিয়েছেন যে, বিষয়টি তিনি স্থানীয়দের জানান।
কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, গত শুক্রবার জসিম উদ্দিন ও মাইন উদ্দিন আবার তার কাছে চাঁদার টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার দুপুরে জসিম উদ্দিন ও মাইন উদ্দিন দল-বল নিয়ে এসে তার বাজারের জমি দখলের চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে তার সঙ্গে তার দুই ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধর করে একটি দোকানের রুমে আটকে রাখে হামলাকারীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। কামাল হোসেনের অভিযোগ, পুলিশ যখন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল তখনও হামলাকারীরা আক্রমণ চালায়।
হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন ও মাইন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। তাই তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাংখার বাজার এলাকায় একাধিক ব্যক্তি বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে দখলদারিত্ব করছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতার কারণে এ রকম ঘটনা ঘটছে।
চর জুবলি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, জসিম উদ্দিন ও মাইন উদ্দিন আগে আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে আঁতাত করতেন। সরকার পরিবর্তনের পর এখন তারা বিএনপি হয়ে গেছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন।
সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।