পাঁচ বাণিজ্যিক ও চারটি বিশেষায়িত ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য নতুন এমডি নির্ধারণ করা হলেও রূপালী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ আপাতত বন্ধ রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাদের পর্ষদকে চিঠি পাঠিয়েছে নতুন এমডি নিয়োগের জন্য। এর আগে এক মাস পূর্বে ছয়টি ব্যাংকের তৎকালীন এমডিদের সঙ্গে সরকার চুক্তি বাতিল করে দেয়। যার ফলে এসব ব্যাংক এমডি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
এক সপ্তাহের চলমান প্রক্রিয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এমডি নিয়োগের জন্য নাম বাছাই করে। এরপর অর্থ উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়া হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে কৃষি ব্যাংকের বর্তমান এমডি শওকত আলী খানকে নিয়োগ দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমানকে জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে এবং অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আনোয়ারুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকেই। অন্যদিকে জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. জসীম উদ্দিনকে বিডিবিএলের এমডি করা হয়েছে এবং বেসিক ব্যাংকের এমডি করা হয়েছে জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. কামরুজ্জামান খানকে। যদিও রাকাবের ডিএমডি মো. আব্দুর রহিমকে রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এখনও ব্যাংকের পর্ষদে চিঠি দেয়নি।
এছাড়াও চারটি বিশেষায়িত ব্যাংকের এমডি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের বর্তমান ডিএমডি মীর মোফাজ্জল হোসেন আনসারকে উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি, কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি সালমা বানুকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এমডি, সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি সঞ্চিয়া বিনতে আলীকে কৃষি ব্যাংকের এমডি এবং কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি চানু গোপাল ঘোষকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১০টি ব্যাংকে এমডি নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে ১৪ অক্টোবর। ১৬ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে একটি সারসংক্ষেপ জমা দেয়। অর্থ উপদেষ্টা ওই দিনই সম্মতি দেন। এরপর সারসংক্ষেপটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যায়। ২০ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় তাতে অনুমোদন দেয় এবং একই দিন তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে ফিরে আসে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোমবার চার বিশেষায়িত ব্যাংকের এমডি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করলেও পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি নিয়োগের চিঠি পাঠানো হয়েছে তাদের পর্ষদে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের এমডি নিয়োগের এখতিয়ার তাদের পর্ষদে থাকে। তবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।