• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন |

ওয়াটারলুতে এসবিসিএর দুর্গোৎসব: প্রবাসী কমিউনিটি উদযাপনে

**কানাডার ওয়াটারলুতে এসবিসিএর দুর্গোৎসব**

সনাতন বেঙ্গলি অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের (এসবিসিএ) উদ্যোগে ১১ ও ১২ অক্টোবর কানাডার ওয়াটারলু অঞ্চলে আনন্দোৎসবের মধ্য দিয়ে মৃণ্ময়ী রূপে প্রথম দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে।

গত বছরের প্রথম দুর্গাপূজার সময় এসবিসিএ পরিবারের মধ্যে এক সূক্ষ্ম আশা জন্ম নিয়েছিল যে একদিন তারা মাকে মৃণ্ময়ী রূপে পাবেন। এবার সেই আশা পূর্ণ হলো যখন বহু উৎসাহী মানুষের সহযোগিতায় দেশ থেকে মা দুর্গার প্রতিমা ওয়াটারলুতে আনা হলো। কানাডার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃশ্যপটে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গোৎসবকে সফল করার জন্য এসবিসিএর বিশাল পরিবারের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষক, স্পনসর এবং আর্থিক অনুদানদাতা বহু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান সহায়তা করেছেন। এসবিসিএ কৃতজ্ঞ এবং এই অবদানের জন্য আপ্লুত। আমাদের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা।

এছাড়া কানাডার পার্লামেন্টে ওয়াটারলুর এমপি বারদিস চ্যাগার এবং কিচেনারের এমপিপি মাইক মরিসের উপস্থিতি ও সমর্থন অনুষ্ঠানটিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের সহযোগিতা এসবিসিএর সদস্যদের উৎসাহিত করেছে এবং পুরো আয়োজনকে আরও সার্থক করে তুলেছে।

গতবারের মতো এবারও বহু কলাকুশলীর উৎসাহী অংশগ্রহণে দুদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রাণস্পন্দন এসেছে। সবেমাত্র বোল ফাটা ছোট শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্ক শিল্পীদের আবৃত্তি, নৃত্য, সঙ্গীত, শ্রুতিনাটক, নবদুর্গা থিম সো, দুর্গা টক শো এবং খ্যাতনামা শিল্পী পৌলমী নন্দন ও চন্দন পালের মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশনা এই পূজার আনন্দকে অনেক গুণ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়াও, ধুনুচি খেলা, সিঁদুর খেলা, শঙ্খ ফুঁ, ঢাক বাজানো প্রতিযোগিতা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো অনুষ্ঠানের অনুষঙ্গগুলি ছোটদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

এবারের দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার একটি মহাসম্মেলন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় এই অঞ্চলের বাঙালিরা টরন্টো, মিসিসাগা সহ দূরবর্তী অঞ্চলে না গেলে উপায় ছিল না, এবার তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে তিনটি পূজায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

এই উৎসবে আসা হাজার হাজার অতিথির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীদের আন্তরিক সমর্থনে এসবিসিএ আশাবাদী যে ভবিষ্যতে তারা একদিন ওয়াটারলুতে বাঙালিদের একটি স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *