**বেলার বেলির বোলিংয়ে ২০০তম উইকেট, তোফা ব্যাটিং**
দুর্দান্ত বোলিং করে টেস্টে ত্রয়োদশবার পাঁচটি উইকেট নিয়ে নিলেন তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের মধ্যেই তুলে ফেললেন নিজের দুইশততম টেস্ট উইকেট। আর সঙ্গে দিয়েছেন এক অসাধারণ ব্যাটিং।
কী হলো এসব? ভুল ধরছেন? তাইজুল ব্যাটিং তো করেছেন বোলিংয়ের আগেই! ৩১ বলে ১৬ রান—যা অসাধারণ কিছু নয়। তাহলে এত প্রশংসা কীসের?
এই ব্যাটিং দিয়েই এলিখলেন ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার গল্প। তবে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নয়, এই ব্যাটিং করেছেন মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনকক্ষে। প্রশ্নগুলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নয়, তবু প্রশ্নের আড়ালে অদৃশ্য ক্রমাগত সাজানো গতিময় বলে তাঁর দিকে ছুটে আসছে—এই মনেই হয়ে থাকতে পারে তাইজুলের। তাই ব্যাট হাতে তিনিও তো চালানোই আছে!
বাংলাদেশে অনেক কিছুই মুখে মুখে হয়ে থাকে। খারাপ খেললেও ট্রল হতে হতে অনেকেই তারকা হয়ে গেছেন। আবার অনেকে ভালো খেলা সত্ত্বেও তারকা হতে পারেননি। আমি এটা মেনে নিয়েছি (হাসি)। তাইজুলের সংবাদ সম্মেলনও এর থেকে আলাদা নয়। যেহেতু তিনিও একজন বাঁহাতি স্পিনার, তাই তাঁর সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দলের অধিকাংশ বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসানের প্রসঙ্গ অবধারিত। আজও প্রায় প্রত্যেকটি প্রশ্নে তাইজুলের নামের সঙ্গে উচ্চারিত হলো সাকিবের নাম। সাকিবের প্রতি অশ্রদ্ধা থেকে নয়, কিন্তু সব উপলক্ষেই তাঁকে টানাটায় ক্লান্ত হতেই পারেন তাইজুল। কিন্তু বিরক্তিটা প্রকাশ না করে, প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর দিলেন এমন প্রাণবন্ত কাটা কাটাভাবে যে একেকবার তাঁর কথা শুনে ব্যাপক হাসির রোল উঠেছে সেখানে।
সাকিবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে একটু ঘুরপথে গিয়ে তাইজুল বললেন, ‘সাকিব ভাই ছাড়া যে আমি খেলি নাই, তা তো না! তিনি থাকাকালেও অনেক ম্যাচে আমি সাকিব ভাই ছাড়া খেলেছি। আমরা যখন নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জিতেছি, সাকিব ভাই ছিলেন না। যখন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের এখানে টেস্ট জিতেছি, তখনও সাকিব ভাই ছিলেন না। অনেক উদাহরণ আছে। আসলে আপনি তো একটা খেলোয়াড়কে ৫০ বছর খেলাতে পারবেন না। একজন আসবে, একজন যাবে।’
একটু বিদেশি কথা বললে, এই আশ্চর্য ব্যাটিং করার সময় মিরপুরের উইকেটের কথা বলছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাবাদাও। পরিসংখ্যানও বলছে তাইজুলের কথাটাই সত্যি। সাকিবের অভিষেকের পর থেকে সাকিব না-খেলা টেস্ট ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের বোলাররা ইনিংসে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন মোট ১২বার। এর মধ্যে তাইজুলেরই আছে নয়টি। দুটি ইনিংসে নিয়েছেন দশটি উইকেট। আর তিনটি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ, নাইম এবং ইবাদত। সাকিবকে (৫৪ টেস্ট) পেছনে ফেলে দেশের সেরা বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে দ্রুততম ২০০টি টেস্ট উইকেট এখন তাইজুলের (৪৮ টেস্ট)।
তবুও তাইজুলই যেন আড়ালে পড়ে থাকেন! এত অর্জনের পরও তারকার জ্যোতি ভালোভাবে ছড়ানো হয়নি। এ ব্যাপারেও তাইজুলের নিজস্ব কিছু ভাবনা আছে, যেটা তাঁর মনে কোনো আক্ষেপই তৈরি হতে দেয় না। তাঁর মুখেই শুনুন কথাটা, ‘আমাদের দেশে অনেক কিছুই মুখে মুখে হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, খারাপ খেলেও ট্রল হতে হতে অনেকেই তারকা হয়ে গেছেন। আবার অনেকে ভালো খেলা সত্ত্বেও তারকা হতে পারেননি। আমি এটা মেনে নিয়েছি (হাসি)।’
যে যা–ই ভাবুন, তাইজুলের ভালো খেলার আনন্দ কোনো কিছুতেই একবিন্দু কমে না। কারণ, খেলছেন তো তিনি নিজে! তাইজুলের সহজ-সরল ভাষায় কথাটা যেমন, ‘সাকিব ভাই থাকলেও আমি সাকিব ভাইয়ের কারণে উইকেট পাই, সাকিব ভাই না থাকলেও সাকিব ভাইয়ের কারণে উইকেট পাই। বিষয়টা এ রকম। কিন্তু খেলি তো আমি!’
মিরপুরে অলআউট হওয়ার সময়ও সাকিবের ছায়ায় পড়ে থাকা তাইজুল কখনো মনে করেননি যে, ‘আমাকে লোকে একবারও চিনতে পারেনি!’ নিজেকে বঞ্চিত বোধ করেন কিনা—এমন প্রশ্নে হেসে উঠে পাল্টা বললেন, ‘প্রশ্নটা কেমন জানি হয়ে গেল…।’ তারপর ব্যাখ্যা, ‘বঞ্চিতের এখানে কোনো কিছুই নেই। বিশ্বের অনেক বড় বড় খেলোয়াড়ের উদাহরণ আছে। যেমন, যখন মুরালিধরন খেলতেন, তখন রঙ্গনা হেরাথ খেলতে পারতেন না। আর হেরাথ যখন খেলেছেন, তখন অনেক উইকেট পেয়েছেন এবং লম্বা সময় খেলেছেন। আমিও দেখি সামনে ভালো কিছু হয় কিনা।’
আমার মূল পার্থক্যটা হলো, আমি অনেক বেশি সময় বল করতে পারি। টানা ১৫-২০ ওভার বোলিং করতে পারি।সাকিবের সঙ্গে নিজের পার্থক্য নিয়ে তাইজুল ইসলামআজকের পাঁচটি উইকেটসহ টেস্টে ২০০ উইকেট পেয়ে খুশিই তাইজুল, খুশি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও। ১০ বছরের ক