• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন |

যুদ্ধের আশঙ্কা ও মার্কিন নির্বাচনের ছায়ায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সম্মেলন

**বিশ্বযুদ্ধের ভয় এবং মার্কিন নির্বাচনের আলামতে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আইএমএফের সভা**

এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নররা একত্রিত হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভয়, ইউরোপে চলমান যুদ্ধ এবং চীনের অর্থনৈতিক অবনতির মাঝে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মার্কিন নির্বাচন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার নির্বাচিত হলে বাণিজ্যিক বিরোধ বাড়ার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার শঙ্কা আছে। – খবর রয়টার্স

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় ১০ হাজারেরও বেশি লোক অংশগ্রহণ করতে চলেছেন। বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়, সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এই যৌথ বৈঠকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পথ খোঁজা, ঋণ সংকট মোকাবিলা করা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে।

বিশ্বের অর্থনৈতিক নেতারা সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে, আসন্ন ৫ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল সব কিছুকে ছাপিয়ে যেতে পারে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতলে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি হচ্ছে, আগের মতো ট্রাম্প আবারও বিপুল পরিমাণে শুল্ক আরোপ করবেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ আরও বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু সহযোগিতা থেকে সরে আসবে।

এই বাস্তবতার মধ্যে মার্কিন নির্বাচন এখন হয়তো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের জিওইকনমিক্স সেন্টারের প্রধান জশ লিপস্কি। আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় বিষয়টি না থাকলেও এটি এখন সবার প্রধান চিন্তার বিষয়। তিনি আগে আইএমএফে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি এবং ডলারের ভবিষ্যত নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে; এছাড়াও, পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান কে হবেন, তাও নির্ভর করছে। বাস্তব হচ্ছে, বিশ্বের প্রতিটি দেশ এর প্রভাব অনুভব করবে।

এই অনুমান করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস নির্বাচনে জয়ী হলে জলবায়ু, ট্যাক্স এবং ঋণ সহায়তা বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।

বাইডেন প্রশাসন ট্রাম্প প্রশাসনের মতো চীনবিরোধী অবস্থান বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর এবং সোলার প্যানেলে শুল্ক বাড়িয়েছে। সভায় এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর পাশাপাশি, ধনী দেশগুলির শিল্প নীতি নিয়েও সভায় আলোচনা হবে।

আইএমএফ আজ মঙ্গলবার বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির একটি আপডেট পূর্বাভাস প্রকাশ করবে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উচ্চ ঋণে জর্জরিত বিশ্ব অর্থনীতি মধ্যমেদে সময়ের মধ্যে কম প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি “দুষ্কর ভবিষ্যত” অপেক্ষা করছে। জর্জিয়েভা আরও বলেন, তিনি প্রবৃদ্ধি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন, কারণ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে চীন এবং ইউরোপের অব্যাহত দুর্বলতা কিছুটা হলেও ভারসাম্য রক্ষা করবে।

ধারণা করা হচ্ছে, গরিব দেশগুলোর ঋণ খেলাপ করার ঝুঁকি এখন সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি, তরলতার সংকট নিয়েও সভায় আলোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি সহায়তা কমানোর ফলে উদীয়মান দেশগুলির উন্নয়ন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

গত বছর মরক্কোতে আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৭ অক্টোবর প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এরপর ইসরায়েলি আক্রমণে এপর্যন্ত অনুমান করা হচ্ছে ৪০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। গত বছরের সভা সেই আক্রমণের আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব মূলত গাজা, পশ্চিম তীর, ইসরায়েল, লেবানন, মিসর এবং জর্ডানে সীমাবদ্ধ। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় যে তেল এবং গ্যাসের সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে তবে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হতে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *