• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

শিশুর বুলি করা: উদ্বেগের কারণ কী?

**আপনার শিশু কি অন্যদের ‘বুলি’ করছে?**

শিশুদের খেলাধুলায় কিছুটা ঝগড়া-বিবাদ লাগবেই। কিন্তু যদি এটা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে অন্যরা মানসিক বা শারীরিক ভাবে আঘাত পাচ্ছে, তাহলে এটাকে অবহেলা করা যায় না। আমরা যেভাবে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আঘাত পাওয়া শিশুকে সহানুভূতি দেখাই, ঠিক সেভাবেই যে শিশু অন্যদের আঘাত করছে, তার প্রতিও আমাদের সবার মনোভাব উচিত হবে ভীষণ বিরূপ। আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে, ‘অন্যায়’ করলেও ওটা একটা শিশু। মারধর, বকা-ঝকা নয়, বরং কেন ওটা এই ‘অন্যায়’ করেছে, সেটা খুঁজে বের করা দরকার। তার মধ্যে যে ‘ভালো’টা আছে সেটা বের করে আনা একটু কঠিন হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়।

আপনার সন্তান যদি কিছু ‘অন্যায়’ করে থাকে, সেটা শুনে আপনি রেগে যেতেই পারেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজেকে শান্ত রাখা খুব জরুরি। এই রকম বিষয় নিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলার জন্য এমন একটা সময় বেছে নিন যেখানে আপনি আর আপনার সন্তান দুজনেই শান্ত আছেন। তাকে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করে শাসনের ভঙ্গিতে কথা বলা যাবে না। এতে তার মনে ক্ষোভ জন্মাবে। বরং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, তার আবেগ-অনুভূতির দিকটা বোঝার চেষ্টা করুন। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাকে ইতিবাচক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত করুন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিশু–কিশোর ও পারিবারিক মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. টুম্পা ইন্দ্রানী ঘোষ এরকমই বলছিলেন।

যদি কোনও নির্দিষ্ট ‘অন্যায়’ প্রসঙ্গে কথা বলতে হয়, তাহলে শান্ত মাথায় শিশুর কাছে জানতে চান, ঠিক সেই সময়টায় কী ঘটেছিল। এমনও হতে পারে, কেউ আপনার শিশুকে আঘাত করে কিছু বলেছে, সেই কারণে সে রেগে গিয়ে ‘বড়’ কোনও কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। আর সেটা সবার কাছেই ‘ফোকাস’ হয়ে উঠেছে। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কিছুটা আঘাতের ‘প্রতিশোধ’ নিতে গিয়ে সে কেন এত বড় কিছু করে ফেলল? আবার এমনও হতে পারে, প্রায় কারণহীনভাবেই শিশু অন্যদের আঘাত করছে। এ ক্ষেত্রেও আপনি ভাবতে পারেন, কেন এমন হচ্ছে? সে কি কোনও কিছু নিয়ে খুব চাপ অনুভব করছে? এ রকম সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে জেনে রাখুন, পারিবারিক পরিবেশের নেতিবাচক দিকগুলি শিশুদের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলে। দাম্পত্য কলহ বা পারিবারিক ‘ঝগড়া’ দেখে বড় হওয়া শিশুরা অন্যদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে পারে। অতিরিক্ত শাসন বা শিশুর মতামতকে অবহেলা করলে সেই শিশু অন্যদের প্রতি অমানবিক আচরণ করতে পারে। আবার নৃশংসতা বা হিংস্রতার প্রকাশ হয় এমন ভিডিও দেখলে বা গেম খেললে বাস্তব জীবনে সেগুলির প্রতিফলনও ঘটাতে পারে শিশুরা।

কারণ খুঁজে পেলে সেই সমস্যার সমাধান করুন। পরিবারের সবাইকে সংযত আচরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশুর প্রতি যত্নবান হোন। স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে আগ্রহ বাড়ান। শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ দিন, বিশেষ করে লাফঝাঁপ করতে হয় এমন খেলাধুলার। সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা কারাতে শেখাতে পারেন। এই ভাবে শিশুর নেতিবাচক শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে সাহায্য করুন। ছবি আঁকা বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজেও উৎসাহ দিন। শিশুর ‘ভালো’ কাজের প্রশংসা করুন। মাঝে মাঝে পুরস্কারও দিতে পারেন। তার আবেগের গুরুত্ব বুঝুন। ভালোমন্দের পার্থক্য বুঝিয়ে বলুন। কাউকে কষ্ট দেয়া ঠিক না, এমনকি একটি পিঁপড়াকে বা একটি গাছকেও না, তার মধ্যে এই বোধটা জাগিয়ে তুলুন। অন্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার মতো কাজে শিশুকে যুক্ত করুন। অন্য কারও সামনে শিশু সম্পর্কে এমন কিছু বলবেন না, যা তার আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে।

স্কুলে যদি এমন সমস্যা হয়, তাহলে শিক্ষকের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক তাকে ক্লাসে প্রথম সারিতে বসাতে পারেন। পড়ানোর সময় একাধিকবার তার নাম ধরে ডাকতে পারেন, আবৃত্তি করার জন্য সামনে ডাকতে পারেন। তার ‘ভালো’ কাজের প্রশংসা করতে পারেন। ক্লাসে কিছু বিতরণ করতে হলে তাকে সাহায্য করতে বলতে পারেন, এমনকি তাকে ক্লাসের ‘ক্যাপ্টেন’ও বানাতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *