• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন |

স সংস্কারে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা হোক

সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণার আহ্বান

ছাত্র-জনতার বিদ্রোহের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাজকর্ম নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

সাক্ষাৎকারে, বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন যে ছাত্র-জনতার বিদ্রোহ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। তিনি বলেন যে এই বিদ্রোহটি শুধুমাত্র শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায়নি, বরং অত্যাচার, দুর্নীতি ও একনায়কত্বের অবসানও ঘটিয়েছে।

ফিরোজ আরও বলেন যে ছাত্র-জনতা-শ্রমিকদের এই সফল বিদ্রোহ বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধিতার আকাঙ্ক্ষারই পরিচায়ক।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাজকর্ম মূল্যায়ন করতে গিয়ে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন যে সরকার এখনও পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরোপুরি সক্ষম হয়নি। তিনি দ্রব্যমূল্য, বাজার অস্থিরতা এবং গরিবদের দুর্দশা মোকাবিলার জন্য সরকারের অপর্যাপ্ত প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন।

ফিরোজ বলেন যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত শব্দটি হল ‘সংস্কার’। তিনি বলেন যে অন্তর্বর্তী সরকারও সংস্কারের কথা বলছে এবং এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন যে এই কমিশনগুলি সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, তবে তারা কিছু সমাধানের পথ দেখাতে পারে। ফিরোজ দাবি করেন যে এই কমিশনগুলি রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সংকট চিহ্নিত করবে এবং সমাধানের পথ নির্দেশ করবে।

তারা অবশ্য সতর্ক হবে যাতে মীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন যে সংস্কার কমিশনগুলির রূপরেখা, পরিধি এবং সময়সূচি সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কে ফিরোজ বলেন যে তিনি সংবিধানের 72-তম সংশোধনী বাতিল করে 70-তম অনুচ্ছেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার পক্ষে। তিনি আরও বলেন যে সংবিধানের অগণতান্ত্রিক সংশোধনগুলি বাতিল করা এবং নারীর সমান অধিকার, সংখ্যালঘুদের স্বীকৃতি এবং মৌলিক অধিকারের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক সংস্কার সম্পর্কে ফিরোজ বলেন যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াে সংস্কার শুধুমাত্র কাগজে-কলমে করা যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির আদর্শ পরিবর্তনও জরুরি।

তিনি বলেন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংস্কার দুটোই সমান্তরালভাবে করা উচিত। তিনি দাবি করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

ফিরোজ আরও বলেন যে সংস্কারের জন্য সরকারকে সীমাহীন সময় দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি দাবি করেন যে সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার এবং নির্বাচন সম্পর্কে একটি রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করা উচিত। তিনি বলেন যে জনমনে সন্দেহ তৈরি হতে না দেওয়ার জন্য এটি জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *