ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতার নিয়মসমূহ
তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়ের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ের চাহিদাও ব্যাপক হারে বেড়েছে। এই পরিবর্তন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের বর্তমান চাহিদা এবং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হওয়ার কৌশল নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন।
অধিক চাহিদাসম্পন্ন তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়সমূহ:
বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ইউজার ইন্টারফেস ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন, ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এগুলো হলো দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্র যেখানে চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে।
ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য:
ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য দেশের তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ তৈরি করা এবং বেকারত্ব দূর করা। আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রায় এক লাখ তরুণ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ পেয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের বয়স ও সংখ্যা:
প্রশিক্ষণার্থীদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তবে যেকোনো বয়সের মানুষই প্রতিষ্ঠানের কোর্সগুলো করতে পারেন। প্রযুক্তির এই যুগে সব বয়সী মানুষেরই তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা:
এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে ৮০ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় সাত হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা রয়েছে যেসব দেশে:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানি। এই দেশগুলোতে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের অবস্থানটি খুবই ভালো। তারা সারা বিশ্বে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে আসছেন।
**শীঘ্রই পেশাজীবন শুরু করা যায় যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ:
ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং এবং ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে খুব দ্রুতই পেশাজীবন শুরু করা যায়। ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের কোর্সগুলোতে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। ফলে, প্রতিটি ব্যাচের অনেক ছাত্রছাত্রী কোর্স চলার সময় থেকেই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট থেকে আয় করা শুরু করে।
ফ্রিল্যান্সিং শুরুতে প্রতিষ্ঠানের সহায়তা:
ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট প্রতিটি কোর্সের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার কৌশল, প্রোফাইল তৈরি এবং প্রকল্প পরিচালনার অন্যান্য দিক নিয়েও প্রশিক্ষণার্থীদের সহায়তা করা হয়।
ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিংয়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদার বিষয়সমূহ:
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ও মোশন ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি অ্যানিমেশন এবং এসইও। এই বিষয়গুলোতে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা প্রচুর।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য চ্যালেঞ্জ:
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার পরামর্শ:
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার মূল নিয়মগুলো হলো দক্ষতা, অধ্যবসায় এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন করা। এছাড়াও, গ্রাহকদের চাহিদা বুঝা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে থাকা জরুরি।
বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবদান:
বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবদান ১৪ শতাংশ। এটি একটি সন্তোষজনক হার। তবে এই হার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত পরিকল্পনা:
দেশব্যাপী এবং আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষতার মান বাড়ানো হলো প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন প্রযু