বাংলাদেশের ক্রিকেট-পাগলদের জন্য কুল খবর!
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট জগতে এক অভাবনীয় ঘটনায় মেয়েদের একটি দল ছেলেদের লিগে অংশ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ম্যানচেস্টার শহরতলির রামসবটম ক্রিকেট ক্লাবের এই মেয়েরা এখন ছেলেদের ল্যাঙ্কাশায়ার লিগে খেলছেন। ইংল্যান্ড তো বটেই, পুরো বিশ্বের ক্রিকেট ইতিহাসেই পুরুষদের টুর্নামেন্টে কোনো নারী দলের অংশ নেওয়ার এটি একেবারে প্রথম উদাহরণ!
এবং কেবল অংশ নেওয়াই শেষ নয়, রামসবটমের এই মেয়েরা খেলায় দারুণ সফলও হয়েছেন।
ল্যাঙ্কাশায়ার লিগ ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের তিন নম্বর স্তরের টুর্নামেন্ট। গত এপ্রিলে এই টুর্নামেন্টে অভিষেক হয় রামসবটম ক্রিকেট ক্লাবের মেয়েদের। মেয়ে ও মহিলা উভয় বয়সী ক্রিকেটার নিয়ে গঠিত এই দল প্রথমই ম্যাচে ছেলেদের অ্যাকরিংটন ক্রিকেট ক্লাবকে হারায়। দলটি চলতি টুর্নামেন্টটি ১১টি দলের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে। আগামী বছরও তারা ল্যাঙ্কাশায়ার লিগে খেলবে বলে জানা গেছে।
এমন আশ্চর্য ঘটনার পেছনে সাধারণত কিছু না কি আকর্ষণীয় গল্প থাকে। রামসবটম ক্রিকেট ক্লাবের মেয়েদের ছেলেদের লিগে খেলার পেছনের গল্পও দুঃসাহসিকতা, চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছা দিয়ে জড়ানো।
২০২০ সালের আগে রামসবটম ক্রিকেট ক্লাবের কোনো নারী দল ছিল না। করোনা মহামারির পর গত বছর ক্লাবের নারী দলটি গঠন করা হয়। তারা মেয়েদের ৪০ ওভারের ল্যাঙ্কাশায়ার লিগে অপরাজিত রয়েছেন এবং টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
মেয়েদের লিগে অসাধারণ সফল হওয়ায় দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্লাব কমিটির মনে হলো এখন নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া যেতে পারে। তাই তারা সময় নষ্ট না করে ২০১৪ সালের মৌসুমের আগে রামসবটমের নারী ক্রিকেট দলকে ছেলেদের ল্যাঙ্কাশায়ার লিগে নিবন্ধন করে ফেলেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) দলটির অধিনায়ক মাইভ জোন্স এবং কোচ ইয়ান কোলিয়ারের কাছ থেকে এই যাত্রা সম্পর্কে জেনেছে।
বিখ্যাত ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে রামসবটমের দূরত্ব মাত্র ২০ মাইল। এই ছোট্ট শহরটির মেয়েদের দল এখন শহরের গর্ব। অধিনায়ক জোন্সের মতে, রামসবটমকে প্রতিনিধিত্ব করা তাদের কাছে কেবল খেলা নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। তিনি বলেছেন, "ছেলেদের লিগে মেয়েদের অংশ নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের মনে হয়েছে কারো তো এটি করতে হবেই। আর আমরা সেই সাহস দেখিয়েছি।"
ছেলেরা খেললে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে এসব কথায় কর্ণপাত করেনি দলটি। জোন্সের কথায়, "আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দখে যেতাম, এমনকি মৌসুম জুড়ে একটি ম্যাচও জিততে নাও পারতাম। তখন সবাই বলত, ‘আমরা তো বলেই দিয়েছিলাম এটাই হবে তোমাদের ফল।’ কিন্তু আমরা তা হতে দিইনি। আমরা কঠোর লড়াই করেছি। মানুষ আমাদের ম্যাচ জেতার সংখ্যা দেখুক।"
কোচ কোলিয়ার জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট জুড়ে তার দল প্রচুর সমর্থন পেয়েছে। "মেয়েদের অনুভূতি ছিল, তারা শুধু তাদের এবং তাদের ক্লাবকেই প্রতিনিধিত্ব করছে না। অনেক লোক আমাদের খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিল, অনেকে আবার অনলাইনে খেলা দেখেছে।"
অধিনায়ক জোন্স জোর দিয়ে বলেছেন, ছেলেদের লিগে অংশ নেয়া রামসবটমের মেয়েদের দলের জন্য একেবারে সঠিক সময়ে নেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এর মাধ্যমে নারী ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। "আমাদের মেয়েরা অত্যন্ত প্রতিভাবান। আমি মনে রেখেছি, শ্রিয়া পিন্ডোরিয়া এক ম্যাচে ৫টির বেশি উইকেট নিয়েছিল এবং তাদের (অ্যাকরিংটন ক্রিকেট ক্লাবের) ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ভেঙে দিয়েছিল। হার তাদের জন্য দুঃখজনক ছিল, আর আমাদের জন্য তা ছিল একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট।"
রামসবটম ক্রিকেট ক্লাবের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা দলের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখানে প্রতিটি স্তরের দলের জন্য পৃথক ড্রেসিংরুম রয়েছে। পৃথক সময়ে অনুশীলনও হয়। ছেলেদের এবং মেয়েদের দল নেটে অনুশীলনের সমান সুযোগ পায়। এ বছর সিনিয়র, জুনিয়র এবং একাডেমি দলের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানও একসঙ্গে করা হয়েছে।
জোন্সের আশা, রামসবটম ক্রিকেট ক্লাবের এই উদ্যোগ দেখে অন্য ক্লাবগুলোও ছেলেদের লিগে মেয়েদের দলকে খেলানোর জন্য উদ্বুদ্ধ হবে। "আমাদের বিশ্বাস, আরও অনেকেই আমাদের পথ অনুসরণ করবে এবং (আমাদের মতো) সাহস দেখাবে।"