• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

ওটিটির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র নূর

ওটিটিতে জ্বলছেন নূর

‘মহানগর’, ‘কাইজার’ সিরিজে অভিনয় করে আলোচিত অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান নতুন ওয়েব সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’–এ দর্শকদের সামনে আসছেন। নির্মাতা অনম বিশ্বাস পরিচালিত হইচই অরিজিনালস সিরিজটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৮ নভেম্বর।

‘রঙিলা কিতাব’–এ প্রদীপ নামে এক তরুণের চরিত্রে অভিনয় করছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। নির্মাতা অনম বিশ্বাস কিঙ্কর আহ্সানের ‘রঙিলা কিতাব’ উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছেন। এই চরিত্র অতীতে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু রাজনীতি প্রদীপকে ছাড়ে না। তার জীবনে ঘুরেফিরে আসে অসহনীয় যন্ত্রণার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাজনীতি।

গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নূর জানিয়েছেন, প্রদীপ রাজনীতিকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখানে মূল বিষয়। অদ্ভুত প্রেমের গল্প হিসাবেও এই সিরিজটিকে উপভোগ করা যাবে।

‘প্রদীপের মতো মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে আমি অনেক এমন চরিত্র দেখেছি। সেগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছি, যা চরিত্রটিকে বুঝতে সাহায্য করেছে’, বলেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।

নূরকে বেশিরভাগ সময়ই অ্যাকশন চরিত্রে দেখা যায়নি। তবে ‘রঙিলা কিতাব’–এ তিনি অ্যাকশন করে দেখিয়েছেন। পরিচালকের সহযোগিতা পেয়েছেন, পাশাপাশি প্রশিক্ষক আসিফ হাসান সাগরের কাছ থেকে অ্যাকশনের কৌশলও শিখেছেন এবং ক্যামেরার সামনে চর্চা করেছেন।

পূর্বে বেশিরভাগ সিনেমা বা সিরিজে নূর অ্যাকশন চরিত্রে অভিনয় করেননি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অ্যাকশন পছন্দ করি, এটা করতেও ভালো লাগে। তবে হয়তো আগে কেউ আমাকে এ ব্যাপারে সুযোগ দেয়নি। অনম ভাই আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, আমিও চেষ্টা করেছি।’

ওটিটির নূর

প্রায় দেড় দশকের ক্যারিয়ারে ‘গেরিলা’, ‘আলফা’র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নূর। তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে তিনি সাধারণ দর্শকের কাছে পরিচিতি পান। নির্মাতা আশফাক নিপুনের ‘মহানগর’ সিরিজে ইন্সপেক্টর মলয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি তারকা খ্যাতি অর্জন করেন। নির্মাতা তানিম নূরের ‘কাইজার’, আতিক জামানের ‘জাহান’–এও নূর অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন। ‘রঙিলা কিতাব’ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেরই একটি কাজ।

তিনি কি ওটিটিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কাজ করার মাধ্যমটা কখনোই আমার জন্য বিষয় ছিল না। বিষয় ছিল কাজটি কেমন। তবে লক্ষ্য করা যায়, টেলিভিশনে সময়ও কম পাওয়া যায়, বাজেটটাও কম থাকে। ফলে, কাজটি তেমন একটা এগোয় না। ওটিটির ক্ষেত্রে সময়টা বেশি পাওয়া যায়, কাজের জন্য প্রস্তুতিও বেশি সময় নিয়ে নেওয়া যায়। বাজেটটাও ভালো। একটি কাজ করে অনেকগুলো নিশ্চয়তার জায়গা তৈরি করতে হয়।’

তবে ভালো গল্প, ভালো চরিত্র পেলে ওটিটির বাইরেও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ যেকোনো মাধ্যমেই কাজ করতে চান তিনি।

যদিও দর্শকরা বলেন, ‘প্রত্যাশার তুলনায় নূরের কাজের সংখ্যা খুবই কম।’ এই বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বেশি কাজ করলে আর প্রত্যাশা থাকত না।

‘আমি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করি। একটা কাজ যদি ভালো হয়, পরের কাজটা আরও ভালো হতে হবে। না হলে ওই প্রত্যাশা থাকবে না। ভালো কাজেরও আপেক্ষিক ব্যাখ্যা আছে। যে ধরনের চরিত্র আগে করেছি, সেই চরিত্রগুলো অনেকেই করেছে। সেগুলো না করার চেষ্টা করছি। নতুনভাবে নিজেকে এক্সপ্লোর করতে চাই।’

সিঁড়ি বেয়ে উঠলে চিনতে চিনতে যাওয়া যায়

২০০০ সালে বাগেরহাট থিয়েটারে যোগ দেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। পড়াশোনা ও অভিনয়ের টানে তিনি ঢাকায় আসেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়ার সুবাদে তাকে আলাদা করে থিয়েটার করতে হয়নি। ক্যামেরার সামনে প্রথমবার দাঁড়ান ২০০৭ সালে, যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন।

বড় পর্দার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ‘মানি হানি’, ‘একাত্তর’সহ বেশ কয়েকটি সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। দেড় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি একেকটা সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

‘ধৈর্য ধরে কাজ করতে থাকা ও কাজের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করেছি। যেকোনো কাজ করতে গেলে সময়ের দরকার হয়। আমি কাজটি ভালোবাসি। কাজের জন্য যে ধরনের বাধাবিপত্তি এসেছে, সবই কাজের অংশ হিসাবে দেখেছি। সিঁড়ি দিয়ে উঠলে চিনতে চিনতে যাওয়া যায়। সেটা হয়তো লিফট দিয়ে উঠলে না–ও চেনা যেতে পারে।’ বললেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *