ব্রিকস সমিতি জানাল, পশ্চিমী চাপ ব্যর্থ করতে তারা মিত্রদের একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন
আজ মঙ্গলবার থেকে রাশিয়ার পশ্চিমা শহর কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের সূচনা হতে যাচ্ছে। এ তিন দিনের সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের বেশ কিছু নেতা রাশিয়ায় পৌঁছেছেন।
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়ায় এটাই প্রথম এত বড় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন। প্রায় আড়াই বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইউক্রেন আক্রমণের ফলে পশ্চিমা বিশ্ব নানা অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে ফেলার চেষ্টা করেছে।
ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেখাতে চাইছেন পশ্চিমাদের সেই চেষ্টা কতটা ব্যর্থ হয়েছে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন এবং ভারত এই উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো ১৫ বছর আগে ব্রিকস জোট গঠন করেছিল। এর পরবর্তী বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা এতে যোগ দেয়। এরপর, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জোটটির প্রসার ঘটে।
রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা কাজানে পৌঁছেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে সে দেশের প্রেসিডেন্ট সি চিনফিং সেখানে পৌঁছেছেন।
এবারের সম্মেলনে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার প্রাধান্য থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হল, সুইফট (দ্য সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনস) এর প্রতিদ্বন্দ্বী একটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পুতিন ব্রিকসের নেতৃত্বে এ রকম একটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। ইউক্রেনে হামলার কারণে ২০২২ সালে সুইফট থেকে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া নিয়েও ব্রিকস নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত লুইজ ইন্যাসিও লুলা দা সিলভা পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন, তাই তিনি এ ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ায় যেতে পারেননি।