কোহলিই এভাবে আউট হন!
এ সময় ভারতের রান দাঁড়িয়েছে ২ উইকেটে ৫৬। ২৪তম ওভারে বোলিং করছিলেন নিউজিল্যান্ড স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। চতুর্থ বলটিতে অনেকটা উপরে থেকে ছোড়েন তিনি। বলটি বাতাসে ভেসে বিরাট কোহলি পর্যন্ত আসার আগে নিচে নেমে ফুল টসে পরিণত হয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে কোহলি বলটি সোজা ব্যাটে খেলেননি। বরং সামনের পা দিয়ে আড়াআড়ি শট খেলার চেষ্টা করেন। এরপরই আরও আশ্চর্যকর ঘটনা ঘটে। কোহলি ব্যাটে বলটি লাগাননি। বোল্ড!
এই আউটটি নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিশ্লেষকেরাও কোহলির শট নিয়ে সমালোচনা করছেন।
মহানদেরও এমন হয়। এই (ভিডিও) রিপ্লেটি বিরাট কোনোদিনই দেখতে চাইবেন না।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার পোস্টে লিখেছেন, ‘বিরাট কোহলি জানেন, তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ শট খেলে আউট হয়েছেন। তার জন্য দুঃখ হচ্ছে…কারণ, তিনি সবসময় খাঁটি এবং সৎ মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন।’
আউট হওয়ার পর কোহলি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসেছিলেন। হয়তো ভুলটি বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সে সময় আর কিছু করার ছিল না। ভারতের ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে পোস্টে লিখেছেন, ‘মহানদেরও এমন হয়। এই (ভিডিও) রিপ্লেটি বিরাট কোনোদিনই দেখতে চাইবেন না।’
মধ্যাহ্নবিরতির সময় কোহলির আউট নিয়ে জিও সিনেমার সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের কিংবদন্তি অনিল কুম্বলে। তার মতে, কোহলি কিছুদিন দেশী ক্রিকেট খেললে ভালো হয়। তবে স্পিনের বিপক্ষে কোহলির এই ভাবে আউট হওয়ার পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলার বিষয়টিকে একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না ভারতের সাবেক এই স্পিনার।
কুম্বলে বলেছেন, ‘সম্ভবত (ঘরোয়া) ম্যাচ পরিস্থিতিতে এক বা দুটি ইনিংস তাকে সাহায্য করত। শুধু অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচ খেলাটা বেশি উপকারী…তবে আমার মনে হয় না স্পিনের বিপক্ষে তার সমস্যার এটাই একমাত্র কারণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে আগেই লেগে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ফুল টস ভুগিয়েছে। শট খেলার সময় ব্যাটও পিচে লেগেছে, যার ফলে ব্যাট চালানোর গতি স্বাভাবিক ছিল না।’
সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন গত বছর জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এরপর ১১ ইনিংসে তার মাত্র দুটি ফিফটি এসেছে। সর্বশেষ ব্যাঙ্গালোর টেস্টে ৭০ রান করে ক্রিজে সেট হয়েও খারাপ শট খেলে আউট হয়েছেন।
২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত টেস্টে এশিয়ার মাটিতে ১৭ টেস্টে (চলতি পুনে টেস্টসহ) ২৬ ইনিংস খেলেছেন কোহলি। এর মধ্যে স্পিনারদের বিপক্ষে আউট হয়েছেন ২১ বার। এর মধ্যে ১০ বারই বাঁহাতি স্পিনারদের বলে। বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে তার গড় ২৭.১০। এ সময়ে এশিয়ান কন্ডিশনে স্পিনারদের বিপক্ষে ২৮.৮৫ গড়ে ৬০৬ রান করেছেন কোহলি। টেস্টে ৪৮.৪৮ ব্যাটিং গড়ের কোহলি সাম্প্রতিক সময়ে স্পিনদের বিপক্ষে ভোগান্তি কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।
ক্রিকেটে প্রচলিত কথা হলো, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও স্পিন খেলতে পারেন! অথচ এখানে কন্ডিশন এশিয়ান এবং ব্যাটসম্যানও কোহলির মতো একজন। প্রশ্ন তাই ওঠে।
কোহলির আউটটি দেখলে বা ভিডিওতে দেখলে একটি ব্যাপার বোঝা যায়। আড়াআড়ি শটটি খেলার সময় তার ব্যাট পিচে লেগেছিল। আর অফ সাইডে বেশি ফিল্ডার থাকায় ভারতীয় তারকা সম্ভবত স্যান্টনারের বোলিংয়ের আগেই মনস্থির করেছিলেন লেগ সাইডে খেলবেন। কুম্বলেও তাই মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘সে আগেই লেগে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ফুল টস ভুগিয়েছে। শট খেলার সময় ব্যাটও পিচে লেগেছে, যার ফলে ব্যাট চালানোর গতি স্বাভাবিক ছিল না।’