• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন |

নাঈমের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ায় বিসিবি, ‘আলোচনার অবকাশ আছে’

নাজমুলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিসিবির বক্তব্য: আলোচনার সম্ভাবনা আছে

দুপুর নাগাদ খবরটা ছড়িয়ে পড়লো যে নাজমুল হোসেন শান্ত অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান। খবরটা ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের ভিড় হলো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির বক্তব্য শোনার জন্য। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এমনকি বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদও দেশের বাইরে রয়েছেন এবং তিনি আগামী ২৮ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। ফারুক আহমেদের অনুপস্থিতিতে বিসিবির সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিচালক নাজমুল আবেদীনকে বিকেলের দিকে মেঘনা ব্যাংক তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেখা গেল।

সাংবাদিকরা নাজমুলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে নাজমুল আবেদীন বলেন, "আমি সকাল থেকে নানা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অনেকের ফোন এজন্য ধরতে পারিনি। মিটিং করছিলাম, কথা বলছিলাম। আমিও টেলিভিশনের স্ক্রল আর আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম যে, নাকি সে আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও ঘোষণা করেছে। যদি করেও থাকে, আমার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র আসেনি।"

নাজমুল আবেদীন পরে যোগ করে বললেন, "যদি হয়, তাহলে এটা আমাদের জন্য একটা বড় খবর। এখন যদি নতুন অধিনায়ক তৈরি করতে হয়, তাহলে বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। অথবা তাকে আবার অনুরোধ করা হবে কি না, এটা আমাদের বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ঘটনাটা আমরা জানতে পেরেছি… আমাদের বিবেচনা করতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"

নাজমুল আবেদীন জানান, ক্রিকেট বোর্ড অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, "বিসিবি আলোচনা করতে চাইবে। কারণ, (নাজমুল হোসেন) শান্ত অনেক দিন ধরে অধিনায়কত্ব করছে, তাই এটা তো আমাদের সময়ের বিনিয়োগও। আমরা একটা খেলোয়াড়কে তৈরি করছি। সে যদি হঠাৎ করে সরে যায়, তাহলে নতুন খেলোয়াড়টা কিছুটা অপ্রস্তুত। এটার জন্য যেতে আমাদের মন চায় না। তবুও এমন পরিস্থিতি হতেই পারে। হঠাৎ করে তিন-চারটা উইকেট পড়ে গেলে তো খেলা শেষ হয়ে যায় না।"

নাজমুলের জায়গায় অন্য কেউ যদি নেতৃত্বে আসে, তাহলে তারও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে না, সে ব্যাপারে নিজেরা সচেতন থাকবেন বলে জানান নাজমুল আবেদীন। তিনি বলেন, "শান্ত যদি না থাকে, তাহলে কারও না কারও কাছে আমাদের যেতেই হবে। তাকেও তো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের উচিত যে-ই অধিনায়ক হোক না কেন, তার পাশে থাকা। হঠাৎ করে স্টিভ ওয়াহ, মাধুগালে, ইমরান খান বা ধোনি হওয়া যায় না, সময় লাগে। আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে এমন অধিনায়কও গড়ে ওঠে না। তাই অধিনায়কের ওপর চাপ দেওয়া অনুচিত।"

এটা মনে রাখা দরকার যে, ও বাংলাদেশের মতো একটা দলের অধিনায়ক এবং এই দল খুবই অধারাবাহিক। সেও নিজে একজন তরুণ খেলোয়াড়। ওর ব্যাপারে আমাদের আরও কিছুটা সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল। – নাজমুল আবেদীন, বিসিবি পরিচালক

নাজমুলের দায়িত্ব ছাড়ার খবর নিশ্চিত না করলেও অধিনায়ক হিসেবে যে তিনি চাপে ছিলেন, সেটা বিসিবির পরিচালক লুকাননি। তিনি বলেন, "আমরা সবাই জানি সে একজন দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান। তার হাতে একজন খেলোয়াড় আমাদেরই কারণে নেতৃত্ব দিতে পারছে না। কারণ, আমাদের মতো একটা দেশের অধিনায়ক হওয়া মানে সব সময় চাপে থাকা। ভালো পারফর্ম করতে পারবে না। আমরা যে পরিমাণ সমালোচনা করি বা যেভাবে সমালোচনা করি, সেটা তার জন্য কঠিন হয়ে যায়।"

নাজমুলের ব্যাটে অধারাবাহিকতার কারণও হয়তো এটাই বলে মন্তব্য করেন নাজমুল আবেদীন। তিনি বলেন, "তার ভালো না খেলার কারণও হয়তো সেটা। আমার মনে হয় ওর পাশে থাকা, ওকে সাপোর্ট করা খুবই জরুরি ছিল। এটা মনে রাখতে হবে যে, ও বাংলাদেশ দলের মতো অধারাবাহিক একটা দলের অধিনায়ক। ও নিজেও খুব তরুণ খেলোয়াড়। ওর ব্যাপারে আরেকটু সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল।"

নাজমুলের জায়গায় অন্য কেউ যদি নেতৃত্বে আসে, তাহলে তারও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে না, সে ব্যাপারে নিজেরা সচেতন থাকবেন বলে জানান নাজমুল আবেদীন। তিনি বলেন, "শান্ত যদি না থাকে, তাহলে কারও না কারও কাছে আমাদের যেতেই হবে। তাকেও তো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের উচিত যে-ই অধিনায়ক হোক না কেন, তার পাশে থাকা। হঠাৎ করে স্টিভ ওয়াহ, মাধুগালে, ইমরান খান বা ধোনি হওয়া যায় না, সময় লাগে। আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে এমন অধিনায়কও গড়ে ওঠে না। তাই অধিনায়কের ওপর চাপ দেওয়া অনুচিত।"


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *