• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন |

জেন-জিরা কেন শুনছেন সোহান আলীর গান

সোহান আলীর গানে আসক্ত যেন–জিরা কেন

তরুণদের কাছে জনপ্রিয় সোহান আলীকে তার গান ‘অন্য গ্রহের চাঁদ’ এবং ‘চল দোতং পাহাড়’ দিয়ে চেনেন। তরুণ এই শিল্পীর গান এবং বর্তমান কর্মজীবনের কথা জানাবো।

সোহান আলীর গানে প্রধানত বেদনার কথাই শোনা যায়, যেমন- ‘তোমার আকাশ ধরার শখ/ আমার সমুদ্দুরে চোখ, আমি কী আর দেব বলো/ তোমার শুধুই ভালো হোক’। বাঙালিরা প্রেমের গান ভালোবাসে, আর যদি তা হয় ব্যর্থ প্রেম, তাহলে কথাই নেই। তবে শুধু প্রেম নয়, তার গানে প্রকৃতি, পাহাড়, জঙ্গল এবং ঝিরিপথে হাঁটার আনন্দও ফুটে ওঠে।

সোহান আলী মূলত ভ্রমণপিয়াসী। হঠাৎ করেই কোথাও চলে যেতে পারেন। নিজের গানের লাইন অনুযায়ী, ‘তাই জটিল ধাঁধার শহর ছেড়ে মন পাহাড়েই যায়’।
একবার তিনি পঞ্চগড় গিয়েছিলেন। সীমান্ত ঘেঁষা একটি চা-বাগানে সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে জোনাকিরা উড়ে বেড়ায়। যেন এনিমেশন ছবির দৃশ্য। শুধু এই দৃশ্য দেখার জন্যই তিনি এক বন্ধুকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন। তাঁবুতে বসে সেই দৃশ্য দেখার প্রভাব হয়তো কেউ খুঁজে নিতে পারেন ‘চল দোতং পাহাড় জুমঘরে/ পূর্ণিমারাত বর্ষাজুড়ে জীবনজুয়ার আসর বসাব’র মতো লাইনে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আসার পরে সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আর দরকার নেই। ঠাকুরগাঁও থেকে গান বানিয়ে অন্তর্জালে ছাড়লেই হলো, সুরটি হয়তো বুয়েন্স এইরেসের কোনো শ্রোতাও খুঁজে নেবেন। সোহান আলী বিশ্বাস করেন, গান প্রকাশের এই স্বাধীনতা তাঁর মতো তরুণ শিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আসার পর শিল্পীদের কারও কাছে ধরনা দিতে হয় না। একটা সময় আপনি যত প্রতিভাবানই হন, একটা লেবেলের মাধ্যমেই আপনাকে সিডি করতে হতো। এই যুদ্ধ আমিও করেছি। এখন এটা নেই। ডিস্ট্রিবিউশন, লাইসেন্স, পাবলিশিং; আমার গানের সব স্বত্ব নিজের। আমার গান আমার হাতে। এই নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে কারও ওপর নির্ভর করতে হয় না, পুরো রয়্যালটি আমার। অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পরে গিয়ে ঠিকমতো রয়্যালিটি দিতে চায় না। তাই আমি মনে করি, এখন শিল্পীদের জন্য বড় সুযোগ।’

এই অবস্থানে আসতে নিজেকে তৈরি করেছেন সোহান। কিন্তু এই গল্পের শুরুটা পঞ্চগড়ে। বাবার চাকরিসূত্রে সোহান সেখানেই বড় হয়েছেন। পূর্বপুরুষদের কেউ কস্মিনকালেও গানে ছিলেন না। নিজেও গান শেখেননি। তবে তার মা’র গলা ছিলো অসাধারন মিষ্টি। হয়তো সেটাই অবচেতন মনে তাকে সুরের দিকে টানে। আর ছিল জগদল।
বয়ঃসন্ধিকালে প্রেম হয়, প্রেম চলে যায়, দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো আমার গানে আছে; হয়তো এ কারণেই কোথাও হয়তো একটা যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। সোহান আলী

পঞ্চগড় সদরের জগদল বাজারে একটি ক্লাবের মতো ছিল। সেখানে বড়রা গান করতেন। সোহান প্রায়ই সেখানে গেতেন। তাঁর আগ্রহ দেখে একদিন তাঁর হাতে তবলা তুলে দেওয়া হয়। এভাবেই গান ও বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তার যোগ শুরু হয়। গানের প্রতি তার আগ্রহ আরো বাড়তে থাকে। তাই মাঠে বন্ধুদের কেউ খেলায় আর কেউ আড্ডায় মগ্ন হলেও সোহান গান নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।
একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সংগীত পরিচালক হবেন। ২০০৯ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য তিনি ঢাকায় আসেন। সোহানের ভাষায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়াটা ছিলো শুধুমাত্র বিকল্প। প্রকৃতপক্ষে তিনি সংগীতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার জন্যই ঢাকায় এসেছিলেন। এরপর তিনি গিটার শিখেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে ব্যান্ড গঠন করেছেন; রেস্তোরাঁ ও বিয়ে অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বহু কাভার গান গেয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করার পর সমস্যা হয়। তিনি কী করবেন? নিজের স্টুডিও বানানোর টাকা নেই। তাই সোহান ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। তিনি বলেন, তিনি মূলত মিউজিক নিয়েই ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতেন। বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইটের ইন্ট্রো মিউজিক তৈরি করতেন এছাড়া কিছু বিদেশি শর্টফিল্মের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও তিনি করেছেন। ২০১৭ সালের দিকে তার অর্থনৈতিক অবস্থার কিছু উন্নতি হয়, তাই তিনি সবকিছু ছেড়ে নিজের স্টুডিও গড়ে তোলেন। সেখানে শুরু হয় সোহানের নতুন যাত্রা।

২০২১ সালে তার প্রথম গান ‘ছেলে’ প্রকাশিত হয়। এখানেও একটি টুইস্ট আছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে একটি সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে তার প্রথম গানটি আসে। চুক্তির কিছু বিষয়ে অসুবিধা হওয়ায়, সোহান গানটির নাম পরিবর্তন করে তা নিজের চ্যানেলে প্রকাশ করেন। এখানে প্রকাশ পায়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *