• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন |

পপকর্ন খাওয়ার এই ৮টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকার

পপকর্ন খান, উপকার পান

সিনেমা হল, পার্ক কিংবা চলাফেরার পথে কে না পপকর্ন মুখে দিচ্ছে? গ্রামের হাটে এটা ‘ভুট্টার খই’ নামে বেশি পরিচিত। একসময়ের হাট ও মেলায় খুব জনপ্রিয় এই খই এখন হয়তো ততোটা দেখা যায় না। তবে বিকেলে স্কুলের সামনে এখনও দেখা যায় ছাত্রদের কাছে ভুট্টার খই ভাজা হচ্ছে। আবার চটপট করে বিক্রিও হয়ে যায় এটা।

এবার ভাবুন তো, এই মুড়মুড়ে ভাজা পপকর্নটা আদতে কতোটা স্বাস্থ্যকর? শুনে কি থমকে গেলেন আপনার পপকর্ন চিবানো? আরে থমকাবেন না কেন! কারণ, মুখরোচক খাবারগুলোর অধিকাংশই কিছুটা কম স্বাস্থ্যকর হয়। তবে এই প্রশ্ন শুনে পপকর্ন চিবানো ঠিকই বন্ধ করবেন না। বরং দাঁতের জোর বাড়িয়ে এবার আরও বেশি করে চিবোতে পারেন এই মুড়মুড়ে শস্যদানাগুলো। বিকেল বা সন্ধ্যার নাস্তায়ও রাখতে পারেন পপকর্ন।

১. কম ক্যালোরির খাবার

পপকর্নে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম। তবে অবশ্যই ডানভাবে ফোলানো হতে হবে। মাখন বা লবণ মেশানো না হলে, বাতাসে ফুলিয়ে তৈরি এক কাপ ভুট্টার খইয়ে থাকে মাত্র ৩০টি ক্যালোরি।

২. ফল বা সবজির চেয়েও স্বাস্থ্যকর

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। ২০১৯ সালে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস’ নামক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, পপকর্ন ‘পলিফেনল’ নামের একটি যৌগে পরিপূর্ণ। পলিফেনল শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা প্রদাহ কমায়। ফল ও সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তা পলিফেনলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। আর পপকর্নে মাত্র ৪ শতাংশ পানি থাকে। ফলে বিশেষ করে এর যে শক্ত অংশটা দাঁতে আটকে যায়, তাতে প্রচুর পলিফেনল থাকে।

তবে শুধু পপকর্ন খেয়ে অন্যান্য ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হবেন না, যা ফল ও সবজি থেকে পাওয়া যায়।

৩. পপকর্ন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে

পলিফেনলের অনেক গুণের মধ্যে একটি হলো এটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। যেহেতু এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, তাই এটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি-রেডিক্যাল নষ্ট করতে সক্ষম। আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চের মতে, পলিফেনলের অনেক ক্ষমতার মধ্যে একটি হলো এটি শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এনজাইমগুলোকে ব্লক করে। এই এনজাইমগুলো ক্যান্সার কোষ তৈরি, বৃদ্ধি ও ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। শরীরে এই সব স্বাস্থ্যকর সুবিধা পেতে ফল ও সবজি খেতে বলা হয়। কিন্তু আগেও জানা গেছে, পলিফেনল বেশি থাকার কারণে এই ক্ষেত্রে পপকর্ন বেশি কার্যকর। পলিফেনল রক্তনালিতে ব্লক তৈরি হওয়াও বাধা দেয়। এটি কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৪. প্রক্রিয়াজাতকরণহীন শস্যদানা

ভুট্টার খই বা পপকর্নকে কোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই খাওয়া যায়। ফলে এটি অন্য যেকোনো শস্যদানা খাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। আমাদের শরীরের জন্য যে পরিমাণ দানাদার খাবার খেতে বলা হয়, একবেলায় পপকর্ন খেলেই তার ৭০ শতাংশ পূরণ হয়ে যায়।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

পপকর্ন আঁশযুক্ত খাবার। এটি শস্যদানা হিসেবে খাওয়া হয় বলে, এতে প্রচুর অদ্রবণীয় আঁশ থাকে। আঁশ হজম প্রক্রিয়া সঠিক রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ৩ কাপ ভুট্টার খইয়ে সাড়ে তিন গ্রাম আঁশ থাকে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাড়িয়ে তোলে।

৬. ওজন কমায়

পপকর্নকে বলা হয় ‘পারফেক্ট ডায়েটিং স্ন্যাকস’। প্রচুর আঁশ থাকার কারণে ভুট্টার খই হজম হতে বেশি সময় নেয়। ফলে এটি আমাদের দীর্ঘ সময় ক্ষুধা থেকে দূরে রাখে। এই কারণেই যদি দুই প্রধান খাবারের মাঝামাঝি সময়ে পপকর্নকে হালকা নাশতা হিসেবে খাওয়া যায়, তবে এটি মিষ্টিসহ উচ্চ ক্যালোরির খাবার থেকে কাছে রাখবে। মূল খাবারের পরিমাণও কম লাগবে। তাই হালকা খাবার হিসেবে ভুট্টার খইর জুড়ি নেই।

৭. ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী

পপকর্ন ডায়াবেটিস রোগীদের বন্ধু খাবার। ২০১৫ সালে সার্কুলার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পপকর্নে যেহেতু প্রচুর আঁশ থাকে, তাই এটি হজমে দেরি হয়। ফলে এর শর্করাও রক্তে মিশতে দেরি হয়। তাই পপকর্ন খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৮. লোহার ঘাটতি পূরণ করে

পপকর্নে অনেক শাক-সবজির তুলনায় লোহার পরিমাণ বেশি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ আউন্স বা ২৮ গ্রাম পপকর্নে দশমিক ৯ গ্রাম লোহা থাকে। এ পরিমাণ কম মনে হতে পারে। কিন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *