এক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আমি সাইড বিজনেস হিসেবে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছি। লোকে বাড়িঘর, জমি কিনতে বা বিক্রি করতে চাইলে আমি তাদের সাহায্য করি। এতে ব্যাংকে আমার কিছু টাকা জমা হয়।
এখন যে গল্পটা বলব, তা আমার একটি ক্লায়েন্টের ঘটনা। সত্য মিথ্যের ভার তার, বিশ্বাস করা বা না করা আপনাদের ব্যাপার। আমার দায়িত্ব শুধু গল্পটা ঠিকঠাকভাবে বলা।
আমার ক্লায়েন্ট স্বামী স্ত্রী দুজনই দেখতে সুদর্শন। জাতিতে ব্রাজিলিয়ান, বয়সে দুজনই তরুণ তরুণী। মাথায় সোনালী চুল, নীল চোখ, চামড়া এতটুকু ফরসা যতটুকু ফরসা হলে ফ্যাকাশে দেখায় না, যতটুকু ফরসা না হলে রাঙা দেখায় না। ছেলেটার গায়ের গঠন শক্ত, শরীর গঠিত, আর মেয়েটা খুব সুন্দর। ব্রাজিলের নামে প্রচলিত একটা কথা আছে, সেটি হল, সেই দেশটি এমন যে, তার ছেলেরা ফুটবল নিয়ে খেলে আর মেয়েরা নিয়ে খেলে ফ্যাশন। আমি আজ পর্যন্ত কখনো কোনো ব্রাজিলিয়ান তরুণীকে অসুন্দর দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
তাদের আসল নাম প্রকাশ না করাই ভালো। পরে হয়ত দেখা যাবে, লোকেরা তাদের নামগুলো ফেসবুকে সার্চ করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে। আজকাল বাঙালি তরুণদের মনে নতুন একটা স্বপ্ন জন্ম নিয়েছে, তারা ইন্টারনেটে প্রেম করে বিদেশি তরুণীদের সাথে বিয়ে করতে চায়। দুদিন পরপর সংবাদপত্রে, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর আসে যে, প্রেমের টানে বিদেশের জীবন ছেড়ে কোনো শ্বেতাঙ্গী রমনী বাঙলার কোনো মফস্বল গ্রামে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছেন। তারপর স্বামী স্ত্রী মিলে একটা ফেসবুক পেজ বানায় এবং ইউটিউব চ্যানেল খোলে। দৈনন্দিন ঘটনাগুলো ভিডিও করে আপলোড করে এবং বিপুল সংখ্যক ভিউ পায়। এমন ঘটনা দেখেই হাজার হাজার তরুণ মনে করে যে, বিদেশি সুন্দরীরা প্রকৃত প্রেমের জন্য মরে এবং তাদেরকে শুধু বাঙালি তরুণরাই দিতে পারে। তাদের প্রোফাইল ভরে ওঠে হাজার হাজার তরুণের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টে। সবার প্রেমই সত্য প্রেম, সবার ভালোবাসাই খাঁটি।
ধরে নেওয়া যাক পুরুষটির নাম রোনালদো এবং তার স্ত্রীর নাম সুজানা। আমাদের ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবল খেলোয়ার রোনালদো এবং তার সাবেক প্রেমিকা সুজানার নাম আমরা ব্যবহার করব।
রোনালদো আর সুজানাকে একটি ঘর দেখাতে গেছি। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে এসেছে তারা, আপাতত ভাড়া বাসায় থাকে এবং খুব তাড়াতাড়ি নিজের বাড়িতে উঠতে চায়। আমি তাদের পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির একটি তালিকা ইমেইলে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা তাদের সময় অনুযায়ী ঘরে বসেই ইন্টারনেটে বাড়িগুলো দেখবে, তারপরে যেগুলো পছন্দ হবে, সেগুলোর জন্য ট্যুর শিডিউল করে আমরা দেখতে যাব।
ই মেইলেই এই বাড়িটা দুজনেরই পছন্দ হয়েছে। তাই স্বচক্ষে দেখাও দেখতে চায়।
আমি ঠিক সময়ে গিয়েছি, সুজানাও খানিকটা পরে এসে উপস্থিত হয়েছে। ফোনে রোনালদো জানিয়েছে, সে ট্রাফিক জ্যামে আটকে গেছে। রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে টেক্সাসেও ট্রাফিক জ্যাম হয়, রোনালদো বোধ হয় সেই রকম কোনো জ্যামেই পড়েছে।
বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা আমাদের ঘর দেখার জন্য সুযোগ বের করে দিয়ে বেরিয়ে গেছে। আমি সুজানাকে ঘর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছি।
“বাড়িটা তোমার কেমন লাগছে?”
সুজানা উত্তর দিল, “আমার তো টেক্সাসের সব বাড়িই ভালো লাগে। বড় বড় ঘর, আরামদায়ক। বাসায় সবসময় হাওয়া লাগে। আমি তখন বুঝেছিলাম যে, আমরা অন্তত একটা বড় ঘর দেখতে এসেছি। আমার মনে হচ্ছে, আমাদের জন্য এই বাড়িটা কেনাই ঠিক হবে কিনা বলবে?”
“বাজারদরের থেকে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার কম রাখা হয়েছে। তেমন কোনো সমস্যাও চোখে পড়ছে না। ইন্সপেকশন রিপোর্ট ভালো আসবে বলেই মনে হচ্ছে। এত কম দামে এ এলাকায় এমন বাড়ি পাওয়া একটা বড় সুযোগ। আমার মনে হচ্ছে এখানে আরো অনেক অফার আসবে।”
সুজানা জিজ্ঞাসু স্বরে বলল, “এত কম দাম নেওয়া হচ্ছে কেন?”
আমি রিয়েলটরের ভাষায় তাকে বোঝালাম যে, কেন মাঝে মাঝে ঘরের মালিকেরা বাজারদরের থেকে কম দামে বাড়ি বিক্রি করে। কিছু কিছু সে শুনল, কিছু শুনল বলে মনে হল না। হঠাৎ করেই সে অপ্রাসঙ্গিক একটা মন্তব্য করল, “এমনতো নয় যে এই বাড়িতে ভূতের উপদ্রব আছে?”
আমি তাচ্ছিল্য করলাম, “এত সস্তায় ঘর পাওয়া গেলে আমি ভূতের সঙ্গে থাকতেও রাজি।”
তবে তার চেহারা দেখে বুঝলাম যে সে সত্যি সত্যিই ভূতে বিশ্বাস করে। রসিকতা তাই আর বাড়ালাম না। গম্ভীরভাবেই জিজ্ঞাসা করলাম, “তুমি কি ভূতে বিশ্বাস কর?”
সরল গলায় সে উত্তর দিল, “অবশ্যই করি। তুমি বিশ্বাস কর না?”
কি জবাব দেব সেটা ভাবছিলাম। অনেকেই ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাসটাকে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস বলে ম