• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন |

সাকিবের ভবিষ্যৎ, নাজমুলের অধিনায়কত্ব আজ নির্ধারিত

নাজমুল কি এই তিনটে সংস্করণের অধিনায়ক পদ ছেড়ে দিতে চলেছেন? দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান চট্টগ্রাম টেস্ট কি অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ? যদি তাই হয়, তাহলে কে বা কারা হবেন নতুন অধিনায়ক?

রাজনৈতিক কারণে দেশের ঘরের মাঠে ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে রাখা হয়েছে সাকিব আল হাসান কে। তিনি কি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে থাকবেন? এই পরিস্থিতিতে তার বিষয়ে বিসিবির অবস্থান কেমন হতে পারে?

প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কোচিং প্যানেলে কি মোহাম্মদ সালাহদ্দীন যোগ দেবেন? জাতীয় দলের এই সাবেক সহকারী কোচ কি আবার সহকারী কোচ পদে ফিরছেন?

এইসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের আজকের সভায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি আজ বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

টেস্ট এবং ওয়ানডের দায়িত্ব মেহেদী হাসান মিরাজকে দেওয়া হতে পারে, টি-টোয়েন্টি দলের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে শোনা যাচ্ছে তাওহিদ হৃদয়ের কথা। তবে নতুন অধিনায়ক ঠিক করার আলোচনায় লিটন দাসের নামও উঠে আসতে পারে। সংবাদপত্র জানাচ্ছে, নাজমুল হোসেন আর জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করতে চান না। তিনি বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে এই ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সূত্র জানাচ্ছে, মূলত ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণে নাজমুলের এই সিদ্ধান্ত। এর পাশাপাশি নিজের ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়াও তার একটি উদ্দেশ্য।

বিসিবির একটি সূত্র জানাচ্ছে, নাজমুলের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে আজকের সভায় নতুন অধিনায়ক ঠিক করা হতে পারে। টেস্ট ও ওয়ানডে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে, টি-টোয়েন্টি দলের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে শোনা যাচ্ছে তাওহিদ হৃদয়ের নাম। তবে নতুন অধিনায়ক নির্ধারণের আলোচনায় লিটন দাসের নামও উঠে আসতে পারে।

লিটনের না খেলার কারণ ব্যাখ্যা করেছে বিসিবি। এক পক্ষের বিরোধিতার কারণে দেশের মাটিতে তার শেষ টেস্ট খেলার ইচ্ছা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে পূরণ হয়নি। কিন্তু ওয়ানডে থেকে সে চূড়ান্ত অবসর না নেওয়ায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাতীয় দলে সাকিবের খেলা নিয়ে সরকারি মনোভাবও এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের মাটিতে না খেললেও সাকিব যদি বিদেশে হওয়া সিরিজে দলে থাকেন, এ ব্যাপারে বিসিবির ব্যাখ্যা তখন কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ দলের সাবেক সহকারী কোচ সালাউদ্দিনের আবার আগের পদে ফেরার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত বলে শোনা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আফগানিস্তান সিরিজ থেকে সেই সিমন্সের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। এই ব্যাপারেও আজকের বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে।

নাজমুল ও সাকিবের ব্যাপারে বিসিবির অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পর এক থেকে দুই দিনের মাঝে আফগানিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা করা হবে। তবে দল ঘোষণার আগে দুঃসংবাদটি হলো, এই আমিরাত সফরে থাকছেন না তানজিম হাসান। এই পেসার জাতীয় লিগ ম্যাচে কাঁধে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

নির্বাচকদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান সফরে পাওয়া মুশফিকুর রহিমের কাঁধের চোট। পাকিস্তান সফরের পর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান সিরিজেও তিনি বিশেষ সুরক্ষায় খেলছেন। এদিক থেকে যতদূর পর্যন্ত সমস্যা হয়নি, সেদিক বিবেচনায় মুশফিক আফগানিস্তান সিরিজের দলেও থাকবেন। তবে চোটের কারণে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছেই। ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিং কিংবা ফিল্ডিংয়েও কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বিসিবির আজকের সভায় পরিচালনা পর্ষদের শূন্য পদ ও গঠনতন্ত্র সংশোধনী সংক্রান্ত উপ-কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। অক্টোবরের ২৮ তারিখের দেওয়া এক চিঠিতে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত হওয়ার কারণে পরিচালনা পর্ষদে এখন পর্যন্ত কতগুলো পদ খালি হয়েছে এবং খালি হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলমান মেয়াদের কোন কোন পরিচালক পরপর কতটি সভায় অনুপস্থিত ছিলেন বা রয়েছেন তার তথ্য তারিখসহ জানাতে বলা হয়েছে। অক্টোবরের ২৯ তারিখে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে এনএসসি বিসিবিকে গঠনতন্ত্র সংস্কারের জন্য উপ-কমিটি গঠন করার অনুরোধ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *