• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন |

ট্রাম্প কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের জন্য বিপদসঙ্কেত

মিশরগঞ্জের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের লড়াই সমানভাবে চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রায় সবচেয়ে বেশি জনমত জরিপগুলো বলছে। দুই পক্ষই নিজেরা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে প্রচারে। দুই প্রার্থীর নীতিগুলো নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ট্রাম্প যা বলছেন, তাতে অনেকটা পরিষ্কার যে তিনি যদি আবার ক্ষমতায় আসেন, তাহলে তার আগের নীতির চেয়ে ভয়ঙ্কর নীতি নেবেন। ট্রাম্পের সম্ভাব্য নীতি নিয়ে হাসান ফেরদৌসের দুই পর্বের বিশ্লেষণের শেষ পর্বে আজ বৈদেশিক নীতি আলোচনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় দেখার ভয়ে ঘুম কিছুটা হারাচ্ছে। তারা ভয় করছে, আবার ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী বৈদেশিক নীতি অনেক বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাবে। এর সবচেয়ে বড় সুফল পাবেন রাশিয়ার একনায়ক ভ্লাদিমির পুতিন। এই দুজনের বর্তমান বন্ধুত্ব হঠাৎ করে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হতে পারে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ন্যাটোভিত্তিক আন্ত-আটলান্টিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হয় ভেঙে যাবে, নয়তো দুর্বল হবে।

ট্রাম্প যদি জেতেন, ইউরোপের অভিবাসন সংকট-কেন্দ্রিক ডানপন্থী রাজনীতিকরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত হবেন। সাম্প্রতিককালে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালিসহ অনেকগুলো ইউরোপীয় দেশে ডানপন্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এমনকি, জার্মানিতেও ডানপন্থীরা একটি প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প এদের প্রত্যেকের কাছেই ঈশ্বরের দান।

ফরিদ জাকারিয়া নামক সাংবাদিক ও লেখক সম্প্রতি একটি মন্তব্যে বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার জিতলে ইউরোপের দক্ষিণদিকে ঝোঁকার এই পরিস্থিতি আরও বেগবান হবে। অনেকদিন ধরেই পৃথিবী মার্কিন গণতন্ত্রকে “আশার আলোকবর্তিকা” হিসেবে জেনে এসেছে। সেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত যদি আইনের প্রতি তেমন কোনো খেয়াল না রাখেন, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের গুরুত্ব না বোঝেন, তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব নেতা স্বেচ্ছাচারী বা একনায়ক হতে চান, তারা উল্লসিত হবেন।

ইউক্রেন নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন প্রমাণ আছে যে, ট্রাম্প পুতিনের সাথে ইউক্রেনে রাশিয়ান দখলকৃত অঞ্চলগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে রাজি হবেন। কিছুদিন আগে, তিনি এমনকি বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ইউক্রেনের ঠিক হয়নি। তবুও সবাই জানে, যুদ্ধ শুরু করেছে রাশিয়া, ইউক্রেন নয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য অজ্ঞতার ফল নয়, বরং রাশিয়া পক্ষপাতদুষ্টতার একটি পরিকল্পিত চিহ্ন। ট্রাম্প এমন কথাও বলেছেন, ইউক্রেন নিয়ে পুতিন “যা ইচ্ছে করতে পারেন”।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে ট্রাম্পের মনোভাব কারো কাছেই গোপন নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও সবার জানা। গত সপ্তাহে তাদের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতায় আসার একদিনের মধ্যে তিনি এই যুদ্ধের সমাধান করবেন। কীভাবে সমাধান করবেন, সেটা অবশ্য খোলাসা করে বলেননি, তবে অনেক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ইউক্রেনকে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে অপছন্দ করেন বলে মনে হয়। আগেরবার ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি জেলেনস্কিকে বাইডেনের বিরুদ্ধে “ময়লা” খোঁজার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জেলেনস্কি এটা করেননি বলে বিপরীতে তাকে কংগ্রেসে অভিশংসিত করা হয়। দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলে, তিনি সুযোগ পেয়ে বদলা চুকতে দ্বিধা করবেন না।

এটি ভাবার কারণ আছে যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে মার্কিনী সমর্থনে ইসরায়েলের নির্যাতন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাঁর প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকার সময় ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর সময় ওয়াশিংটনে পিএলও অফিস বন্ধ হয়ে যায় এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিন ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার (ইউএনআরডাব্লিউএ) তহবিল আটকে দেওয়া হয়।

প্রথম দফায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ট্রাম্পের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত ছিল তথাকথিত "মুসলিম ব্যান"। সন্ত্রাসের অভিযোগে তিনি সাতটি মুসলিম দেশের মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ফলে ফিলিস্তিনী প্রশ্নে ট্রাম্পের মনোভাব কারো কাছেই গোপন নয়। ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও গোপন নয়। গত সপ্তাহে তাদের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, "আপনি যা চান তাই করতে পার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *