• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন |

মহিলা ভোটে কমলার ‘ট্রাম্প কার্ড’

নারী ভোট হতে পারে কমলার ধারালো অস্ত্র

ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে পিয়ের্তে রিকোর লোকজনকে ‘ভাসমান আবর্জনা’ বলে রীতিমতো হেয় করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরও একবার কমলা হ্যারিসের প্রেক্ষাপটে দিয়েছিলেন ‘সম্মানের’ উপাধি। তিনি যদিও নিজে বলেননি, তবে তার সমর্থকরা কিন্তু মোটেই রাখেননি মুখে কাপড়। পেনসিলভানিয়া থেকে আসা পিয়ের্তে রিকোর লোকজন এ জন্য বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যদিও এই আগুনে ঘি ঢেলেছেন ট্রাম্প নিজেই।

বিস্কনসিনের এক জনসমাবেশে বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, মহিলাদের নিরাপত্তা তিনি নিশ্চিত করবেন, তারা তা চাইবেন কি চাইবেন না সেটা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে, তার সহযোগীরা তাকে এরকম কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি কি প্রেসিডেন্ট নন? তিনি তার দেশের মহিলাদের রক্ষা করবেন। তারা চাইবেন কি না, চাইবেন না তাতে তার কি? তাদের তিনি সুরক্ষিত করবেনই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী সংক্রান্ত সমস্যাগুলো কখনও গোপন ছিল না। তিনি তিনবার বিয়ে করেছেন, আর সবগুলো ক্ষেত্রেই স্ত্রী থাকাকালীনই অন্য কোনো নারীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি তার স্ত্রী মেলানিয়া যখন সদ্য সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, সে সময় পর্ন তারকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি রীতিমতো কেলেঙ্কারে জড়ান। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তার একটি ভিডিও ফাঁস হয়। সেখানে মহিলাদের নিয়ে ট্রাম্প যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা বলার উপযুক্ত নয়। মহিলাদের সঙ্গে তার ইচ্ছেমতো ‘যা খুশি করতে পারেন’ বলেও তিনি বলেছেন।

ওবামাকেয়ার বাতিল করে নারীদের বিরুদ্ধেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বারবার কমলাকে উদ্দেশ্য করে নানা অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাকে নির্বোধ, দুর্বল বলে গালি দিয়েছেন। তার কিছু সমর্থক তো কমলাকে ‘দেহব্যবসায়ী’ বলতেও দ্বিধা করেননি।

এই ট্রাম্পের নিজেকে নারীর রক্ষাকর্তারূপে প্রদর্শনের ফলে তিনিই বিপদে পড়ে গেছেন। মহিলারা বলছেন, ট্রাম্প মহিলাদের রক্ষা করবেন? বরং তাকেই মহিলাদের হাত থেকে রক্ষা করা উচিত। তারাও এখন খতিয়ে দেখছেন, ট্রাম্প বিগত বিশ বছরে কীভাবে মহিলাদের সঙ্গে আচরণ করেছেন, কি ধরনের মন্তব্য করেছেন। একটি বিবৃতিতে কমলা বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, তিনি মহিলাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। তার নির্বাচনী শিবির থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যের একটি ভিডিও সম্পাদনা প্রকাশিত হয়েছে। একে দেখে ‘ঘৃণ্য’ ছাড়া আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের নিজেকে নারীর রক্ষক বলে চালানোটা আত্মঘাতী প্রচেষ্টার পর্যায়ে পড়েছে। মহিলারা বলছেন, ট্রাম্প মহিলাদের রক্ষা করবেন? বরং তাকেই মহিলাদের হাত থেকে রক্ষা করা উচিত।

এবারের নির্বাচনে হাতিয়ার হিসেবে গর্ভপাত ইস্যুটিকে ট্রাম্প যেভাবে ব্যবহার করেছেন, তার ফলও ভালো হয়নি। মহিলারা এই ইস্যু নিয়ে ক্ষুব্ধ। গর্ভপাতের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা অনেকদিন ধরেই ভোগ করে আসছেন মার্কিন মহিলারা। কিন্তু ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই নিশ্চয়তা বাতিল হয়ে যায়। ট্রাম্প তখন গর্ব করে দাবি করেছিলেন, এরকম রায় দেওয়া শুধু তার পক্ষেই সম্ভব, কারণ তিনিই সুপ্রিম কোর্টে তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই রক্ষণশীলরাও গর্ভপাতের বিপক্ষে। তবে রাজনৈতিকভাবে এই আইনি বিজয় কি তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে তা ট্রাম্প তখনই বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি জানতেন, কট্টর রক্ষণশীল এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হলেও দেশের বেশিরভাগ মহিলা এবং পুরুষও গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার পক্ষে। তাই নির্বাচনের আগে তিনি সুর পাল্টানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু এতে কাজ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ট্রাম্প জিতলে মার্কিন মহিলাদের অবস্থা কী হবে?

২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প-পন্থী ‘লাল দল’কে গর্ভপাতের ইস্যু দিয়েই প্রতিহত করা হয়েছিল। এবারও একই ঘটনা ঘটবে বলেই আশা করছেন কমলা। এই আশায় কোনো ভিত্তি নেই তা বলা যাচ্ছে না। জনমত জরিপে এরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার ৫০.৫০ শতাংশই মহিলা। মোট ভোটারের হিসেবেও তারা পুরুষদের এগিয়ে রয়েছেন (৫৩ শতাংশ)। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি হারে ভোট দেন। পুরুষদের ভোট দেওয়ার গড় হার ৬৫ শতাংশ। মহিলাদের ভোট দেওয়ার হার প্রায় ৭০ শতাংশ।

গর্ভপাত এই নির্বাচনের একটি প্রধান ফ্যাক্টর হওয়ায় মহিলা ভোটাররা, বিশেষ করে শিক্ষিত, শহুরে এবং শহরতলির মহিলারা কমলার দিকে ঝুঁকেছেন। অধিকাংশ জরিপে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার ‘জেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *