• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

ইউসিবি-তে ২০ কর্মীর পদত্যাগের আদেশ, শুরুর হল ছাঁটাই–আতঙ্ক

ইউসিবিতে ২০ কর্মকর্তার পদত্যাগের নির্দেশ, ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে

বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ২০ জন কর্মকর্তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য গত সপ্তাহে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকই বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক এবং বাকি অর্ধেক প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। এই ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছাঁটায়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়া দুই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, শুধু চট্টগ্রামে বাড়ি হওয়ার কারণে তাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। অথচ তাদের কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। যেসব বিভাগে অনিয়ম হয়েছে, তারা কখনো সেসব বিভাগে কাজ করেননি। তবে তালিকায় অনেকের নামই রয়েছে যারা অনিয়মে জড়িত বিভাগগুলির দায়িত্বে ছিলেন।

এই ২০ কর্মকর্তার মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং অনেকেই এই সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ইউসিবির নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের হাতে। শুরু থেকেই ব্যাংকটির সাথে পারটেক্স গ্রুপ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জড়িত ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে পারটেক্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের ইউসিবি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। তখন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান রুকমিলা জামান। তবে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতেন, তাই ব্যাংকটি মূলত পরিচালনা করতেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো একটি চিঠিতে ইউসিবির কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার অভিযোগ করেন যে, রুকমিলা জামান ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেও সাইফুজ্জামান চৌধুরীই কার্যত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। তার "স্বেচ্ছাচারিতা এবং লুটপাটের কারণে" ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার পথে।

ওই চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে ১,৮৮৮ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে, যা মূলত "ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা লুট করে" গড়ে তোলা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্বের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অনন্ত গ্রুপের শরীফ জহিরকে নিয়োগ দেয়। এরপর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ কাদরীও পদত্যাগ করেন। নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদকে। ইউসিবির বর্তমান আর্থিক অবস্থা যাচাই করার জন্য সাতটি প্রতিষ্ঠানকে নিরীক্ষার দায়িত্ব দেয় পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ।

জানা গেছে, এসব নিরীক্ষার কয়েকটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। যাদের অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের অনেককে ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও অনেককে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের বলা হয়েছে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে চাকরিচ্যুত করা হবে এবং তখন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে জানতে ব্যাংক চেয়ারম্যান শরীফ জহির এবং এমডি মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *