• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন |

ত্রিশঙ্কু রাজ্যই নির্ধারণ করবে ট্রাম্প-মোদীর ভাগ্য

দোদুল্যমান রাজ্য মাপবে ট্রাম্প-কমলাদের ভাগ্য

৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কিছু রাজ্যে আগাম ভোট ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দুই প্রধান দল, ডেমোক্র্যাটিক এবং রিপাবলিকান, প্রভাবশালী। অধিকাংশ রাজ্যে এই দুই দলের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে। কিন্তু কিছু দোদুল্যমান রাজ্য আছে যেগুলো প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দেয়। এইগুলোকে ‘সুইং স্টেট’ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ বলা হয়।

শেষ মুহূর্তের প্রচারে এই রাজ্যগুলো ঘুরছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের পক্ষে প্রচার করছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে ট্রাম্প-সমর্থক বিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক। এমনকি তারকারাও পছন্দের প্রার্থীর জন্য প্রচারে নেমেছেন। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দুই প্রার্থীর মধ্যে চলছে কঠিন লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে সাতটি দোদুল্যমান রাজ্য। এগুলোকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ও বলা হয়। রাজ্যগুলো হলো: অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, উত্তর ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিন।

যে রাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক এবং রিপাবলিকান দলের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে, সেখানে জয়-পরাজয় অনেকাংশে আগে থেকেই বোঝা যায়। তাই শেষ পর্যন্ত দোদুল্যমান রাজ্যগুলোই প্রার্থীদের জয়-পরাজয় ঠিক করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর ভোটাররা যে প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট হন। এ কারণে প্রার্থীরা এই রাজ্যগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ইলেক্টোরাল ভোটই প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে। পপুলার ভোটে কোন প্রার্থী যে রাজ্যে জেতেন, সাধারণত সেই রাজ্যের সব ইলেক্টোরাল ভোটই তিনি পান। তবে কয়েকটি ব্যতিক্রম রয়েছে। মোট ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট হন।

অ্যারিজোনা রাজ্যে ১১টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে জয়লাভ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ২০২০ সালে সামান্য ব্যবধানে এই রাজ্যে জয় ছিনিয়ে নেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাই এবারের নির্বাচনেও এ রাজ্যের দিকে সবার নজর থাকবে।

অ্যারিজোনার বাসিন্দাদের মধ্যে জাতিগত বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে সেখানকার বেশিরভাগ মানুষই শ্বেতাঙ্গ, যাদের অ-হিস্পানিক বলা হয়। তারা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৪ শতাংশ। রাজ্যের ৩১.৬ শতাংশ মানুষ হিস্পানিক। বাকি ৫.৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রো-আমেরিকান এবং ৫.২ শতাংশ ভারতীয় ও আলাস্কান বংশোদ্ভূত। সাধারণত হিস্পানিক এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বেশি জনপ্রিয়। তবে জরিপ অনুযায়ী, শেষের দিকে আসতে ট্রাম্পও তাদের সমর্থন পেতে শুরু করেছেন।

জর্জিয়ার ১৬টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে। সাধারণত এ রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরাই জয়লাভ করেন। তবে ২০২০ সালে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বাইডেন এখানে জয়লাভ করেন। এর আগে শেষবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিল ক্লিনটন ১৯৯২ সালে এই রাজ্যে জয়লাভ করেছিলেন। বাইডেনের জয়ের পেছনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হয়।

এ রাজ্যের অ-হিস্পানিক শ্বেতাঙ্গ জনসংখ্যা ৪৯.৬ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩.২%) কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রো-আমেরিকান। এছাড়া ১১.১ শতাংশ হিস্পানিক এবং ৪.৯ শতাংশ এশীয় বংশোদ্ভূত।

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে মিশিগানে বেশিরভাগ সময় ডেমোক্র্যাটরাই জয়লাভ করেছেন। এ রাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ১৫। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে এখানে ট্রাম্প জয়লাভ করেন। সম্প্রতি করা একটি জরিপ অনুযায়ী, এ রাজ্যের বাসিন্দারা অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে এবারও রাজ্যটির হাতবদল হতে পারে।

এ রাজ্যের ৭৩.৭ শতাংশ মানুষ অ-হিস্পানিক শ্বেতাঙ্গ। তারপরেই সবচেয়ে বেশি কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী, যারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪.১ শতাংশ। হিস্পানিক জনসংখ্যা ৬ শতাংশের মতো। এছাড়া আরব-আমেরিকান বাসিন্দাও রয়েছেন। গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারায় ডেমোক্র্যাটরা আরব-আমেরিকান ভোট হারাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতটি দোদুল্যমান রাজ্যের মধ্যে নেভাদায় ইলেক্টোরাল ভোট সবচেয়ে কম, মাত্র ছয়টি। তবে তারপরেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ রাজ্যের গুরুত্ব রয়েছে। ২০২০ সালে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *