• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন |

[“error”:”censored”]

ভাই-বোনের অনন্য সম্পর্কেরই উৎসব ভাইফোঁটা

ভাই-বোনের অটুট বন্ধনের চারপাশেই গড়ে উঠেছে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রথা।

শাস্ত্রানুযায়ী, শুক্লা দ্বিতীয়ায় এই উৎসব পালিত হয়। পঞ্জিকা অনুসারে, কালীপূজার দুই দিন পর ভাইফোঁটা উদযাপন করা হয়। ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়া’ বা ‘ভাইফোঁটা’ উৎসবের পেছনে অনেক পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়ায় যমুনাদেবী তার ভাই যমরাজের কল্যাণ কামনায় তাঁর আরাধনা করেন। এই পূজার ফলে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। বোন যমুনার পূজার ফলে ভাই যমের অমরত্ব লাভের ঘটনাটি মনে রেখে আজকের দিনেও বোনেরা ধর্মীয় আচার পালন করে থাকেন।

অন্য একটি কাহিনী অনুযায়ী, একদিন রাক্ষসরাজ বলির সঙ্গে লড়াই করে বিষ্ণুদেব পাতালে বন্দী হন। স্বর্গের দেবদেবীরা মহা বিপদে পড়েন। কারণ, তারা কোনোভাবেই বিষ্ণুকে বলির রাজ্য থেকে মুক্ত করতে পারছিলেন না। অবশেষে এগিয়ে আসেন লক্ষ্মীদেবী। তিনি বলিরাজকে ভাই হিসেবে স্বীকার করেন। সেই উপলক্ষে তার কপালে তিলক পরান। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্বীকার করে বলি যখন লক্ষ্মীদেবীকে উপহার দিতে চান, তখন লক্ষ্মী চান ভগবান বিষ্ণুকে। সেই থেকেই ভাইফোঁটা উৎসবের শুরু।

আবার অন্য একটি সূত্রানুযায়ী, এদিন দৈত্য নরকাসুরকে বধ করে কৃষ্ণ যখন তার বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দেন এবং তাঁকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকেই ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়। এই দিনে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে বোনেরা বলেন, ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাটা।’

পৌরাণিক কাহিনি যাই থাকুক, আজকের দিনে ভাইফোঁটা একটি সামাজিক উৎসব। এই উৎসব পারিবারিক সম্পর্কগুলিকে আরো দৃঢ় করে। তাই ভাইফোঁটার ধর্মীয় তাৎপর্যের চেয়ে সামাজিক এবং পারিবারিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ভাই-বোনের ভালোবাসা ও আন্তরিকতাই এখানে মূল বিষয়।

আমরা সামাজিক প্রাণী। আমাদের সমাজ গড়ে ওঠে পরিবার থেকে। মা-বাবা, ভাই-বোন দিয়ে শুরু হওয়া পরিবারটিই আত্মীয়তার বন্ধন বিস্তার করে কালক্রমে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশী, পাড়া, গ্রাম অতিক্রম করে একদিন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *