• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন |

টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষে কি রোহিত-কোহলি?

টেস্ট ক্রিকেটে রোহিত শর্মার সর্বশেষ ১০ ইনিংসে রান ছিল ১৩৩ আর বিরাট কোহলির ১৯২। দুজনেই এসময় মাত্র একটি করে ফিফটি করেন। যদি ভারত কোনও ম্যাচে জিতত তাহলে হয়তো রোহিত-কোহলির ব্যাটিং ব্যর্থতাটা আড়ালে পড়ে যেত। কিন্তু নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে এভাবে দলের পরাজয়ের পর এ দুই তারকার সাম্প্রতিক ব্যাটিং রেকর্ডই সামনে চলে এসেছে। এখন এ নিয়ে তাদের টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া পর্যন্ত আলোচনা চলছে।

গত ২৫ অক্টোবর নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগেই অস্ট্রেলিয়া সফরে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির দল ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। যথাযথভাবেই ওই সিরিজেও দলের নেতৃত্ব দেবেন রোহিত। দলে আছেন কোহলি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজাও। অশ্বিনের বয়স ৩৮ পেরিয়ে গেছে, রোহিতের তা পেরিয়েছে ৩৭। আর আগামীকালই কোহলি ৩৬তম জন্মদিন পালন করবেন। আর ডিসেম্বরে জাদেজারও ৩৬ বছর পূর্ণ হবে। তাই বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় এটাই হতে যাচ্ছে এ চার সিনিয়র ক্রিকেটারের একসঙ্গে শেষ সফর।

তবে এই সফরে যদি রোহিত, কোহলি, অশ্বিন আর জাদেজা ব্যর্থ হন (একটু স্পষ্ট করে বললে, যদি ভারত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে না পারে) তাহলে এই চার জনেরই টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হতে পারে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ জানাচ্ছে, এই সিনিয়রদের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে বিসিসিআই খুব শিগগিরিই আলোচনা করতে বসতে পারে প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং প্রধান নির্বাচক চেতন শর্মার সঙ্গে।

গতকাল মুম্বই টেস্টে পরাজয়ের পর ভারতের নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজে ফলাফল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩-০। এই তৃতীয়বার ঘরের মাঠে সিরিজে এভাবে শ্বেতসাফ হয়েছে ভারতীয় দল।

রোহিত-কোহলিদের নিয়ে যে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে তা হলো, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের তুলনায় স্পিন বোলিং ভালো খেলেন তাঁরা। তবে এই সিরিজে সেই ধারণাটি পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিন ম্যাচে ভারতের ৬০টা উইকেটের মধ্যে ৩৭টিই নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররা। মুম্বাই টেস্টের আগে এজাজ প্যাটেল-গ্লেন ফিলিপসদের খেলার সঙ্গে মানিয়ে নিতে ৩৫ জন নেট বোলার ডেকে আনে ভারতীয় দল ম্যানেজমেন্ট। আর তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন স্পিনার। কিন্তু দল ম্যানেজমেন্টের এ কলাকৌশলটিও কাজে লাগেনি।

মুম্বাই টেস্টেও ভারতের ২০টা উইকেটের মধ্যে ১৬টি নিয়েছেন কিউয়ি স্পিনাররা। দুজন ব্যাটসম্যান রানআউট হয়েছেন। যাদের একজন হলেন কোহলি। তিনি প্রথম ইনিংসে প্যাগলের মতো দৌড়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন, যখন তার ব্যক্তিগত স্কোর ছিল মাত্র ৪। আর আজ অর্থাৎ দ্বিতীয় ইনিংসে এজাজ প্যাটেলের বলে আউট হয়েছেন মাত্র ১ রানে। ১১৮ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটাই প্রথম ঘটনা যেখানে কোহলি একটা টেস্টের দুই ইনিংসেই এক অঙ্কের স্কোরে আউট হয়েছেন।

বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে কোহলির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভারতীয় সমর্থকদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সাল থেকে বাঁহাতি স্পিনে ১২ বার আউট হয়েছেন কোহলি। এই সময়ে বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২০.৪১।

সর্বশেষ ৮ ইনিংসেই তিন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান, মিচেল স্যান্টনার ও এজাজ প্যাটেলের শিকার হয়েছেন ৪ বার। অর্থাৎ, ঘরের মাঠে লাগাতার স্পিন সামলাতে ব্যর্থ হলেও প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, কোহলি সর্বশেষ রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছেন ২০১২ সালের নভেম্বরে। তখনও তার আদর্শ শচীন টেন্ডুলকর অবসর নেননি।

মুম্বাই টেস্টের দুই ইনিংসেই ভারতের উইকেট পড়ার শুরু হয়েছে অধিনায়ক রোহিতের মাধ্যমে। ম্যাচে ভারতের মাত্র ২টা উইকেট গেছে নিউজিল্যান্ডের পেসারদের দখলে। দুইটাই নিয়েছেন ম্যাট হেনরি। তবে ব্যাটসম্যান একজনই—রোহিত। সর্বশেষ ১০ ইনিংসে ৬ বারই এক অঙ্কের স্কোরে তাকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে। আর ২০ রানের কম করেছেন দুবার। কোহলি স্পিনে ভুগলেও রোহিতের সমস্যাটা ডানহাতি পেস বোলারদের বিপক্ষে। সর্বশেষ ১০ ইনিংসের ৬টিতেই হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, টিম সাউদি (২ বার) ও ম্যাট হেনরি (২ বার) বলে রোহিত আউট হয়েছেন।

গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই রোহিতকে দেখা যাচ্ছে ইনিংসের শুরু থেকেই বড় শট খেলতে। ওয়ানডেতে সফল হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একইভাবে সফল হয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য পরীক্ষায় টেস্টও তিনি একই কৌশল নিয়ে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *