• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন |

নিষিদ্ধের শতবর্ষ: বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কালো দিন

একশো বছর আগে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে কাজী নজরুলের বিদ্রোহী কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী এবং ভাঙার গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

বিষের বাঁশীর বিপক্ষে মত দিয়ে লিখেছিলেন বেঙ্গল লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান অক্ষয় কুমার দত্ত গুপ্ত। তার চিঠির ভিত্তিতে দশ দিনের মধ্যেই বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলের অন্য নিষিদ্ধ বইয়ের মধ্যে ছিল বিষের বাঁশী, যেটির সুরধ্বনি আজও সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে বেজে ওঠে। রুশ লেখক মিখাইল বুলগাকভ বলেছিলেন, "পান্ডুলিপি কখনোই পোড়ে না।" এই কথাই বই নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে সত্য।

কারাগারের লোহার দরজা ভেঙে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার গান ‘কারাগারে ওই লৌহকবাট’ শতাব্দীর পরও মানুষের হৃদয়ে বিদ্রোহের শিখা জ্বালিয়ে রাখে। এটি শুধুমাত্র একটি গান নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বৈষম্যর দেয়াল ভাঙার প্রতীক।

বিষের বাঁশী এবং ভাঙার গান কেবল একটি সময়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন সমাজের জন্য আকাঙ্ক্ষা, এই দুটি বই যে আদর্শের প্রতীক, তা আজও মানুষের অন্তরে রেজোন্যান্স তৈরি করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *