আইজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ডেমোক্র্যাট দলর কান্ডিডেট কমলা হ্যারিস আর রিপাবলিকান দলর ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই দুজনের মাঝে যুদ্ধ চলছে হোয়াইট হাউসের চাবির কা পরিত। দিনভর রিপাবলিকান হাতি আর ডেমোক্র্যাট গাধা লড়বে।
আইজ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টা রাজ্য আর ওয়াশিংটন ডিসির ভোটাররা ভোট দেবে। যুক্তরাষ্ট্র খুব বড় দেশ, ওখানে ছটা টাইম জোন আছে। এরে কারণে বিভিন্ন রাজ্যে সময়ের পার্থক্য আছে। তায় সব রাজ্যে সময় মিলিয়ে ভোট সুরু আর শেষ হইবে। আগাম ভোট দিয়া আইজ ৭ কোটি ৮০ লাখ ভোটার রেজিস্ট্রেশন করছে।
নির্বাচনের আলোচনার কেন্দ্রস্থলে আছে দুইটা বড় দলর প্রার্থী কমলা আর ট্রাম্প। এরা প্রথাগত ভাবেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। কমলার নির্বাচনি সঙ্গী ভাইস প্রেসিডেন্ট টিম ওয়ালজ আর ট্রাম্পর নির্বাচনি সঙ্গী ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। এবারের নির্বাচনে আরও চার জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আছে। এরা হচ্ছে গ্রিন পার্টির জিল স্টেইন, লিবার্টারিয়ান পার্টির চেজ অলিভার, নিজস্ব দলে কর্নেল ওয়েস্ট আর রবার্ট কেনেডি জুনিয়র।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্টর পদ দখল করার লগে এই সব প্রার্থী প্রচুর প্রচার করেছে। প্রথমে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী আছিলেন ৮১ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ট্রাম্পের লগে বিতর্কর পরাজিত হওয়ার পর বয়সের কারণে দলীয় চাপর কারণে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। গত জুলাইতে তর স্থানে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টা রাজ্যের ৪৩টা রাজ্যে কমলা আর ট্রাম্পের মধ্যে কে জিতবে সেটা প্রায় নিশ্চিত। আসল সমস্যা হছে সাতটা দোদুল্যমান রাজ্য—পেনসিলভ্যানিয়া, অ্যারিজোনা, নেভাদা, উইসকনসিন, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান আর জর্জিয়া। এই সাতটা রাজ্যর ফলাফল কমলা আর ট্রাম্পর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। বিভিন্ন মতামতের ফলাফল বলছে, দুজনের লড়াই খুব কাছাকাছি হবে। নির্বাচনের জয়-পরাজয় ঠিক করে দিতে পারে এই সাতটা দোদুল্যমান রাজ্য। তাই শেষ মুহূর্তে দুজনেই এই সব রাজ্যে দৌড়ঝাঁপ করছে। গতকাল কমলা পেনসিলভ্যানিয়ায় একটা নির্বাচনী সমাবেশ করার কথা ছিল। তার আগে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি একটা ভাষণ দিয়েছে। মিশিগানে আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম ভোটারদের টানার জন্য তিনি বলেছে যে, গাজা যুদ্ধ বন্ধে নিজের ক্ষমতার আওতায় সবকিছু করবে।
গতকাল নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভ্যানিয়া আর মিশিগানে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প একটা সমাবেশ করেছে। নর্থ ক্যারোলাইনার কিনস্টন শহরের সমাবেশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছে যে, “আমরা যেসব সমস্যায় পড়েছি, সেগুলো সমাধান করা সম্ভব। দেশের ভাগ্য এখন আপনাদের হাতে।”
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: জয়-পরাজয় নির্ধারণের অন্যতম রাজ্য মিশিগান ২০২০ সালে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার সময় চলছিল করোনা মহামারী। তখন মহামারির পরিস্থিতি শক্ত হাতে সামলেছিল বাইডেন প্রশাসন। তবে এই করোনা পরে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ পড়ার কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে, কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে। অভিবাসীদের নিয়েও শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেনি বাইডেন। এই সবের কারণে তার জনপ্রিয়তা কমেছে।
মূলত এই সব কারণেই বাইডেন ক্ষমতায় আসার কিছু সময় পর থেকে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য কমতে শুরু হয়েছে।
এবারের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পকে দুইবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এটাও তার জনপ্রিয়তা কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেছে। তবে রবিবার নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় একটা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার কারণে ট্রাম্প নির্বাচনে জিতলেও সে কৃতিত্ব তার নিজের হবে না। বাইডেন প্রশাসনের প্রতি মানুষের অসন্তুষ্টি তার জয়ের পেছনে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টা রাজ্যের ৪৩টা রাজ্যে কমলা আর ট্রাম্পের মধ্যে কে জিতবে সেটা প্রায় নিশ্চিত। সমস্যা হচ্ছে সাতটা দোদুল্যমান রাজ্য—পেনসিলভ্যানিয়া, অ্যারিজোনা, নেভাদা, উইসকনসিন, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান আর জর্জিয়া। এই সাতটা রাজ্যর ফলাফল কমলা আর ট্রাম্পর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
গতকাল নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার জনমত জরিপে দেখা গেছে, সারা দেশে ৪৯ শতাংশ মানুষ কমলা আর ৪৮ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছে। এ ছাড়া দোদুল্যমান রাজ্যগুলির মধ্যে পেনসিলভ্যানিয়ায় ট্রাম্প ১ শতাংশ, অ্যারিজোনায় ৪ শতাংশ, নেভাদায় ১ শতাংশ, নর্থ ক্যারোলাইনা আর জর্জিয়ায় ১ শতাংশ ব্যবধ