• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন |

মিশিগানে আরব ভোটদাতারা ট্রাম্পকে সমর্থন কেন

যুক্তরাষ্ট্রের আরব ভোটাররা কমলা হ্যারিসকে হারানোর কারণ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারান, তাহলে তার কারণ হবে আরব বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা। ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সামরা লোকমান এমনই ধারণা করছেন।

সামরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আরব আমেরিকানদের ভোট প্রায় নিশ্চিতভাবেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা পেয়ে এসেছেন। কিন্তু এবার গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের নির্বিচার হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশব্দ সমর্থনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের দাম দিতে হচ্ছে।

মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের উপকণ্ঠ ডেট্রয়েটে নিজের অফিসে আল-জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে সামরা বলেন, ‘যদি কমলা হ্যারিস হেরে যান, তাহলে আমি বলব, এই দলের কারণেই তাঁকে হারতে হয়েছে। গাজার কারণে, সেখানে গণহত্যার কারণে তাঁকে হারতে হয়েছে।’

গাজা ও লেবাননে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পরও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এই কারণে সামরার মতো অনেক আরব বংশোদ্ভূত আমেরিকান দলে হতাশ হয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ছেড়ে যাচ্ছেন। তারা বদলে যাবার আশায় ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন।

বিভিন্ন সময় মুসলিম এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও ট্রাম্প এসব ভোটারের কাছে গিয়েছেন। ডিয়ারবর্নে তিনি অভিবাসী এবং মুসলিমদের মধ্যে প্রচার চালিয়েছেন। সেখানে গত শুক্রবার আরব বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিকরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।

সামরার গলার হারে ফিলিস্তিনের মানচিত্র, আল আকসা মসজিদের গম্বুজ এবং ফিলিস্তিনি পতাকা শোভা পাচ্ছিল। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, মুসলিমদের ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া জুয়া ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু কমলাকে সমর্থন করার অর্থ নিশ্চিত পরাজয়। কারণ তিনি ইসরাইলকে অকুণ্ঠ সমর্থন করে যাবেন।

ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত এই নারী বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলেও ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলার আশঙ্কা আছে ৯৯ শতাংশ। যুদ্ধ থামানোর সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু কমলার হাতে গণহত্যা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। তবে কীভাবে তিনি সেটা করবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। আপনার প্রথম মেয়াদে ইসরাইলকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তবে কমলার কিছু সমর্থক বলছেন, তিনি বাইডেনের পদক্ষেপগুলি অব্যাহত রাখবেন না। তিনি ইসরাইল নীতির বিষয়ে ইতিমধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখেছেন। তিনি ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অবাধে প্রবাহ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সামরা বলেন, ট্রাম্পকে সমর্থন করার অর্থ এই নয় যে তাঁর আগের মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্যোগগুলি ভালো ছিল। বরং এটি বাইডেন-কমলা প্রশাসনের ইসরাইলকে অভূতপূর্ব সামরিক সমর্থনের জন্য বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টকে কিছুটা হলেও জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্য।

এই আরব বংশোদ্ভূত আমেরিকান নারী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে এই গণহত্যার শাস্তি কখনোই হবে না। এবং আমার মনে হয়, এই শাসনকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’

সামরা বলেন, ‘ওয়াশিংটনের প্রতি এবং বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের প্রতি আমার বক্তব্য হচ্ছে, এই নির্বাচনের পরে যদি আপনারাও বাইডেনের মতো আচরণ করেন, তাহলে আপনারাও এই পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকুন।’

তবে কমলার কিছু সমর্থক বলছেন, তিনি বাইডেনের পদক্ষেপগুলি অব্যাহত রাখবেন না। তিনি ইসরাইল নীতির বিষয়ে ইতিমধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখেছেন। তিনি ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অবাধে প্রবাহ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরব আমেরিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দূরত্ব ট্রাম্পের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।

মত ভিন্নতায় দুলছে এমন অঙ্গরাজ্য মিশিগানে দুই প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেখানে আরব ভোটাররা চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করতে পারেন। এই রাজ্যে জয় বা পরাজয় নির্ধারণ করে দিতে পারে, পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হতে যাচ্ছেন।

ট্রাম্প শুক্রবার আরব অধ্যুষিত শহর ডিয়ারবর্নে সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। ট্রাম্প এবং তার চরমপন্থী সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন যে এই শহরে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ফলে সেখানে মার্কিন কর্তৃপক্ষ আর যাবে না।

শুক্রবার সেখানে গিয়ে ট্রাম্প উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। ব্যবসায়ী আলবার্ট আব্বাসের ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই ভাষণে তিনি ‘ক্ষমতাসীনদের বিশ্বাসঘাতী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

‘যদি কমলা হ্যারিস হেরে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *