• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন |

বয়সের চেয়ে বেশি বুড়িয়ে যাচ্ছেন? এই লক্ষণগুলোকে চিনুন!

যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনি বয়সের চেয়ে বেশি বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীর আর মনে প্রাকৃতিকভাবেই কিছু পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলোকে আটকানো অসম্ভব। তবে বয়সের আগেই এ রকম কোনো পরিবর্তন হলে বুঝতে হবে যে, আপনি বয়সের চেয়ে বেশি বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন।

বয়সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো যে শুধু বয়সের কারণেই হয়, তা নয়। তারুণ্য ধরে রাখার জন্য একজন মানুষের যেমন পর্যাপ্ত ঘুম, সময় মতো খাওয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া আর শরীরচর্চা জরুরি, তেমনি জরুরি চাপমুক্ত জীবনযাপনও। তাই পেশাগত বা পারিবারিক জীবনে যাঁরা খুব চাপে থাকেন, আর দীর্ঘ সময় ধরে অফিস বা সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাঁরা খুব সহজেই বয়সের আগেই বুড়িয়ে যেতে পারেন। আবার দীর্ঘদিনের কোনো রোগে ভুগলেও শরীর-মনে বয়সের ছাপ আগে থেকেই পড়তে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে জিনগত কারণও দায়ী থাকতে পারে। ধূমপান, মদ্যপান আর মাদক সেবনও বয়সের আগে বার্ধক্য আনতে পারে। স্কয়ার হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন এমনটাই বলেন।

সাধারণত ৪০ বছর বয়স থেকে আমাদের শরীরে কিছু বয়সজনিত পরিবর্তন হতে শুরু করে। আর ৫০ পেরোলে শুরু হয় মানসিক পরিবর্তন। ধরে নিই আপনার বয়স চল্লিশের কম, তবে আপনার মধ্যে বয়সজনিত পরিবর্তনগুলোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাহলে আপনাকে অবশ্যই নিজের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে। এমন কয়েকটি পরিবর্তন সম্পর্কে এখানে জানা যাক।

শারীরিক কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া:

তারুণ্যের উদ্দাম গতি আপনি ৪০ বছর পর্যন্ত পুরোপুরি ধরে রাখতে না পারলেও, তা একেবারেই অস্বাভাবিকভাবে ধীর হয়ে পড়ার কথা নয়। আপনি যে কাজগুলোতে অভ্যস্ত, সেগুলো করতে না পারাটা অস্বাভাবিক। শরীরের অধিকাংশ পেশির যোর সামান্য কমে যাওয়া, স্বাভাবিক কাজ করতেই ক্লান্তি অনুভব করা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া, শরীরচর্চার উদ্যম হারানো আর পেশির ঘনত্ব কমে যাওয়া—এসবই হতে পারে বয়সের লক্ষণ।

মানসিক পরিবর্তন:

আপনার চিন্তার গতি যদি আগের চেয়ে কমে যায়, কাজকর্মে মনোযোগ হারান, অথবা যদি আপনি অল্পতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার মনটা একটু বুড়িয়েই গেছে।

স্মৃতিভ্রম:

বয়সের সঙ্গে স্মৃতিভ্রমের সম্পর্ক আছে। প্রায়ই আপনি যদি অনেক কিছু ভুলে যান অথবা নতুন কিছু শিখতে একেবারেই অপারগ হয়ে পড়েন, তাহলে তা হতে পারে অকালবার্ধক্যের লক্ষণ।

ত্বকের পরিবর্তন:

বয়সের আগেই আপনার ত্বকে ভাঁজ পড়তে পারে। আপনার ত্বক হঠাৎ অতিরিক্ত শুষ্কও হয়ে উঠতে পারে। এমন হলে কেবল ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না; শরীর ও মনের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

চুলের পরিবর্তন:

চুলের বেশির ভাগ পেকে যাওয়া অথবা টাক পড়ে যাওয়া বার্ধক্যের লক্ষণ। তবে মনে রাখবেন, টাক পড়ে যাওয়ার পেছনে জিনগত কারণও দায়ী হতে পারে। আপনার পরিবারের আগের কোনো প্রজন্মে এভাবে টাক পড়ে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে, তা নিজের বেলায় সহজভাবেই নিতে হবে। এটাকে অকালবার্ধক্যের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।

শেষ কথা:

বার্ধক্যের ছাপ ঠেকাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব আমরা জানি। সুস্থ থাকতে সব বয়সেই ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার অভ্যাস ঠিক রাখতে হবে। কর্মজীবন আর পারিবারিক জীবনের চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে। আর বার্ধক্যের এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে চাপমুক্ত আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে।

যদিও, জীবনযাপন স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর থাকার পরেও যদি অকালবার্ধক্যের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। কিছু রোগের কারণেও এ রকম লক্ষণ দেখা দিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *