• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন |

বাংলাদেশ: স্বস্তি না শঙ্কা?

কেবল স্বস্তিতেই ফিরছে নাকি শঙ্কার নতুন সংস্করণ যুক্ত হবে? আজ শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি দিয়ে প্রায় আট মাস পর প্রিয় ওয়ানডে সংস্করণে ফিরতে চলেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু এর আগে এই প্রশ্নগুলি সামনে আসা স্বাভাবিক কারণ টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে নাজমুল হোসেনের দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো নয়।

ওয়ানডে ক্রিকেটের দুই দলের পূর্বতন রেকর্ড রয়েছে যাতে বাংলাদেশের আশার কারণ। আফগানদের বিপক্ষে ১৬টি ওয়ানডে খেলে তারা ১০টিতে জয়লাভ করেছে। এমনকি সর্বশেষ তিনটি ওয়ানডেতেও জয়টি ছিল বাংলাদেশের দখলে। এছাড়াও সামগ্রিকভাবেই বাংলাদেশের ওয়ানডে সংস্করণে সফলতার ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত মার্চে ঘরের মাঠে খেলা সর্বশেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ সিরিজ জয়ের আগে গত ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও জয়লাভ করেছে তারা এবং সেটিও নেপিয়ারে খেলে।

যদিও আজ থেকে শুরু হওয়া তিন ওয়ানডের সিরিজটি শুধুমাত্র বাংলাদেশই খেলবে না, এর পাশাপাশি খেলবে আফগানিস্তানও। আফগানদের বিপক্ষে অতীত রেকর্ডকে এক পাশে রেখে দেওয়া হলে ওয়ানডে ক্রিকেটে তারাও ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই শারজার মাঠেই গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে হাশমতউল্লাহ শহীদির দল বাড়তি আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচটি দলগুলির মধ্যে, কোনো দলের বিপক্ষে এটি তাদের প্রথম সিরিজ জয়। এর আগে এ বছর মার্চ মাসেও ‘ঘরের মাঠ’ শারজায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে।

তাই শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা আফগানদেরকে সাদা বলের ক্রিকেটের কোনো সংস্করণ কিংবা সাদা বলের ক্রিকেটের কোনো সংস্করণতেই অবহেলা করা ঠিক নয়। এর পাশাপাশি রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীদের স্পিন বোলিং এবং ফজলহক ফারুকির ফাস্ট বোলিংয়ের সঙ্গে এবারে সামিল হয়েছে ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান সেদিক উল্লাহ আতাল।

আফগানিস্তানের হয়ে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরও এই বামহাতি ওপেনারটি নিজের ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন। সুযোগ পেলেই তিনি অভিষেককে রাঙিয়ে তোলার জন্য প্রস্তুত। ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলা শেষ পাঁচ ইনিংসে সেদিক উল্লাহর রান ৮৩, ৯৫, ৫২, ৮৩ এবং ৫৫। অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংসটি তিনি খেলেছিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে। সেদিক উল্লাহ আফগানিস্তান ‘এ’ দলকে ইমার্জিং এশিয়া কাপের শিরোপা জেতিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান অর্জন করেছিলেন। ১৯ সদস্যের আফগান দলে আরও নতুন দুটি মুখ রয়েছে, যথা শীর্ষ দলের ব্যাটসম্যান দরবিশ রাসুলি ও পেসার বিলাল সামি।

এ দলের সাফল্যকে হাতিয়ার করে আফগানিস্তান ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বপ্ন দেখলেও বাংলাদেশ দল মাঠের ভিতরে-বাইরে নানা রকম নেতিবাচকতায় জর্জরিত। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় লাভের পর সেটা প্রায় ভুলতেই বসেছে পরের ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের ব্যর্থতায়। যদিও সংস্করণটি আলাদা, তবুও প্রায় একই খেলোয়াড়রা খেলতে নামবে! এই সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়কত্ব নিয়েও কিছুটা বিতর্ক ছিল। যদিও নাজমুল বিস্তর তর্কবিতর্কের পরেও পরিশেষে অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে এই সিরিজটি হবে বাংলাদেশের কোচ হিসাবে ফিল সিমন্সের প্রথম অ্যাওয়ে সিরিজটি, তাও আবার এমন এক দলের বিপক্ষে যাদেরকে এক সময় তিনি নিজে কোচিং করতেন।

সব মিলিয়ে, কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের সবার জন্যই শারজার এই তিনটি ম্যাচ পরীক্ষার মতো। সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য আসলেই স্বস্তিদায়ক হবে, নাকি শঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলবে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *