• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন |

ট্রাম্পের বিজয়ের পর বিশ্ব বাজারে ডলারের মূল্য বাড়ল, বিটকয়েনের দাম ইতিহাসের সর্বাধিক

ট্রাম্পের জয়ের পর ডলারের দাম বাড়া, বিটকয়েনের দর ইতিহাসের সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর দেশটির শেয়ার বাজারে আনন্দোৎসব পালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে মার্কিন ডলার এবং বিটকয়েনের দরও বেড়েছে। বুধবার একদিনে ডলারের দর আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। আবার বিটকয়েনের দামও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প কর কমাতে পারেন এবং আমদানি কাস্টমস ডিউটি বাড়াতে পারেন। ফলে মূল্য বৃদ্ধি বাড়তে পারে। এতে নীতিগত সুদের হার কমানোর গতি কমতে পারে। নীতিগত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সঞ্চয় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থেকে বেশি মুনাফা পেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গতকাল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শেয়ার ও মুদ্রা বাজারে নড়েচড়ে বসেছে। কি কি ঘটল সেগুলি এক নজরে-

১. যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শেয়ার সূচক বেড়েছে, বিশেষ করে ব্যাংকের শেয়ারের দর ভালো হয়েছে।
২. পাউন্ড, ইয়েনসহ বেশ কিছু বড় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বিশেষ করে পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের দর কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা গত ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
৩. যুক্তরাজ্যের বড় বড় সংস্থাগুলোর সূচক এফটিএসই ১০০ দিনের শুরুতে বাড়লেও দিন শেষে কিছুটা কমেছে।
৪. ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর কমেছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা গত জুন মাসের পর সবচেয়ে কম।
৫. জাপানের বাজারের প্রধান সূচক নিক্কি ২২৫ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি জাপানি অর্থনীতির জন্য ভালো।
৬. চীনের মূলভূখণ্ডে সাংহাই কম্পোজিট সূচক অবশ্য কিছুটা কমেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেন সূচক কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।

বিটকয়েনের দামও গতকাল রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের বিটকয়েন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির পরাশক্তি’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার এই প্রতিশ্রুতির কারণে বিটকয়েনের মূল্য ৬ হাজার ৬০০ ডলার বেড়ে ৭৫ হাজার ৯৯৯ ডলারে উঠেছে।

এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং বাইডেন প্রশাসনের ভিন্নতর অবস্থান দেখা গেছে। বাইডেন প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু ট্রাম্প এ বিষয়ে তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন।

পূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয়ে যে অপচয় হয়েছে তার হিসেব নেওয়ার জন্য তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ককে দিতে চান। ইলন মাস্ক অনেকদিন ধরেই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করছেন। তার সংস্থা টেসলা ২০২১ সালে বিটকয়েনে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ করেছিল, যদিও বিটকয়েনের দর ওঠানামা করে। মাস্কের এই বিনিয়োগ বিটকয়েনের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে গতকাল টেসলার শেয়ারের দর ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং এটি দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌছেছে। নির্বাচনী প্রচারে ইলন মাস্ক ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তার এই সমর্থন এবং ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি ইতিবাচক মনের ভাবের কারণে বিটকয়েনের দরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশা জাগানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সম্ভাব্য দিক এবং অন্যান্য অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এদিকে গতকাল মার্কিন বন্ডের সুদের হার বেড়েছে।

বাজারের ধারার দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নতুন সরকার আরও বেশি ঋণ করবে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা ঋণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঝুঁকির জন্য বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত সুদ দাবি করছেন।

২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরই প্রথম মেয়াদেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তথাকথিত বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তখন তার প্রধান লক্ষ্য ছিল চীন। কিন্তু এবার তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি এই বাণিজ্য যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়াবেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্পের নতুন মেয়াদে শুধু চীনই নয়, বরং বিশ্বের সব দেশই তার কঠোর বাণিজ্য নীতির মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ ধনী দেশগুলোর উপর এই প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে মুক্ত ও অবাধ বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী রিচেল রিভস।

ট্রাম্প বার বার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব দ্রব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *